নিউজ ডেস্ক : সোমবার, ১৯ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দেশকে ফ্যাসিবাদের কুণ্ঠিত পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করার জন্য প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলাতে হবে এবং ব্যাপক সাংবিধানিক সংস্কার আনা অপরিহার্য। ময়মনসিংহ সার্কিট হাউসে সোমবার অনুষ্ঠিত ইমাম সমাবেশে তিনি উপস্থিত জনতার সামনে জানান, সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল ক্ষমতার মূল অধিকার জনগণের হাতে থাকা সত্ত্বেও তা বহুদিন ধরে জনগণ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তাই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি জোর দেন।
ড. রীয়াজ বলেন, স্বাধীনতার পরও কোনো নির্বাচিত সরকারই ৪২ শতাংশের অধিক ভোট প্রায়ই পায় নি এবং বর্তমান ব্যবস্থায় সংবিধানগত সংস্কার না হলে পুরনো অনুকরণ ফেরত আসতে পারে। তিনি প্রস্তাবিত সংস্কারের মাধ্যমে উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রস্তাব তুলে ধরেন, যাতে মোট ভোটের সামান্য অংশ লাভ করলেও বৈধ প্রতিনিধিত্ব পায় দলগুলো এবং উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া ও দায়িত্ব বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা আনার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির নিযুক্তি ও বিচারপতি, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশনসহ সংবিধানগত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাস্তবিকভাবে স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে আনলে ককট্রোল ও ক্ষমতার এককেন্দ্রিকতার অবসান ঘটবে। এতে প্রশাসনিক নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি মনে করেন, দলগত বাধ্যবাধকতা কমে এমপিরা স্বাধীনভাবে তাদের এলাকার মানুষের কল্যাণমূলক সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করতে পারবে। তিনি এর ফলে সংসদীয় গণতন্ত্রে ন্যায়বিচার ও বিতর্কের উন্নতি ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন। সংশোধনী প্রস্তাবে অর্থবিল ও আস্থা ভোটের ব্যাপারে সাংগঠনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উপায়গুলোও উল্লেখ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
সভায় বিশেষ অতিথি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা ও সংবিধানের মূল লক্ষ্য হলো সামাজিক ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। তিনি অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন এবং গণভোটকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে দুরে থাকার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি জাতির উন্নয়নের জন্য তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বে গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার প্রতিপাদ্য হিসেবে বলেন, গণভোট শুধুমাত্র একদিনের সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ধারণের ঐতিহাসিক সুযোগ। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে নাগরিকদের তাদের অধিকার ফেরত পাওয়ার এবং সুচিন্তিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাওয়ার।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয় ও রেঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ গ্রহণ করেন। বক্তারা শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ ও আইনি এবং সংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা উপস্থিত জনসাধারণকে সংলাপ ও সহমতের মাধ্যমে মত বিভেদ সমাধানে আহ্বান জানান।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, গণভোটের জয়ের মাধ্যমে নয় শুধু শাসন ব্যবস্থা বদলে যাবে, বরং সামাজিক ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এক শক্ত ভিত্তি গড়ে উঠবে। সভার শেষে অংশগ্রহণকারীরা আগামীদিনে গণভোটে সক্রিয় ও শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন; স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকরা মিলিয়ে গণভোটে ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। সবাই একযোগে এগোবে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ



