এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে র্যাব-৬। উপজেলার বারইখালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালাম (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
র্যাব-৬ জানায়, মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী গ্রামে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারি অবস্থান করছে—এমন গোপন তথ্য তাদের কাছে আসে। তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৬-এর একটি আভিযানিক দল রোববার ভোরে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের একপর্যায়ে জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালাম পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া এলাকার রতন হাওলাদারের ছেলে।
একজন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদক সরবরাহের নেপথ্য নেটওয়ার্ক নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ মাদক কীভাবে মোরেলগঞ্জে পৌঁছাল, এর উৎস কোথায় এবং কোথায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে এটি আনা হয়েছিল—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের চালান পরিবহনে কারা জড়িত, এর পেছনে কোনো আন্তঃজেলা চক্র রয়েছে কি না এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে আরও কেউ সংশ্লিষ্ট কি না—তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এসব বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত হবে।
র্যাব-৬-এর দাবি, গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালামের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের টেকনাফ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যাত্রাবাড়ী থানায় মাদক-সংক্রান্ত তিনটি মামলা রয়েছে।
র্যাবের এ তথ্য সত্যতা যাচাই ও মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। তবে যদি আগের মামলাগুলোর তথ্য সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও বর্তমান ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।




