আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি (সিজফায়ার) চুক্তির মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরানের এ হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
মার্কিন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরগামী একটি কার্গো জাহাজকে লক্ষ্য করে চারটি একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) আক্রমণকারী ড্রোন ছোড়ে ইরান। এর মধ্যে তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হলেও একটি জাহাজটির ওপরের ডেকে আঘাত হানে। হামলায় জাহাজটির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও সেটি নিরাপদে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত বোকামিপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা মাত্রই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছি, আর ইরান সেই চুক্তিই লঙ্ঘন করেছে।’ তবে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পাল্টা জবাবের ঘোষণা দেননি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের একটি সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক আলোচনার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ চলছিল। ওই সমঝোতার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপদ বাণিজ্যিক চলাচল নিশ্চিত করা।
এদিকে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের অভিযোগের জবাব দেয়নি। তবে তেহরান আগেই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, তাদের অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার না করলে কোনো জাহাজের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না। মার্কিন প্রশাসন অবশ্য আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ নৌচলাচলের অধিকারের ওপর জোর দিয়ে আসছে।
হামলার পর আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন খাতেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত নিরাপদ নৌযান চলাচল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে; তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।-
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই কৌশলগত নৌপথে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ভূরাজনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।




