নিউজ ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ব্যাপক শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী ছয়জন ডিন পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাতে ডিনদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও নিশ্চিত করেছে।
শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে ডিনস কমপ্লেক্সে জমায়েত হয়ে সেই ছয় ডিনের চেম্বারে তালা জড়িয়েছিল; পরে রেজিস্ট্রার, সহ-উপাচার্য ও প্রক্টর দপ্তরের গেটেও তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দাবি করেন — নির্দিষ্ট কিছু অনিয়ম ও কর্তৃত্ববোধের বিরুদ্ধে এটা তাদের প্রতিবাদ। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কিছু সময় দফতরগুলো বন্ধ রাখা হলেও পরবর্তীতে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শিক্ষার্থীরা আলোচনায় বসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় ডিনরা তাদের দায়িত্ব পালনে ‘অপারগতা’ প্রকাশ করেছেন—ফলে তারা পদত্যাগের পথ নির্বাচন করেছেন; উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব জানান, সমস্যার একটি সমাধান সামনে আসছে এবং আগামীকাল (সোমবার) অফিসিয়ালি বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। একই ঘটনায় কয়েকজন ডিন নিজ দায়িত্ব পালনে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে স্থানীয় পেশাজীবী ও প্রশাসনিক সূত্রেও জানা গেছে।
প্রেক্ষাপট হিসেবে, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বরেই বিভিন্ন কমিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং ওই নির্বাচনে কিছু অনুষদের ডিন নির্বাচিত হয়েছিলেন; গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও উপাচার্য আইনি বিধি অনুযায়ী নির্বাচিত নতুন প্রতিনিধি আসা পর্যন্ত তাদের স্বপদে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন—কিন্তু চলমান উত্তেজনার কারণে সূচনাস্বরূপ আজকের পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। এর পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য বদলি বা পুনর্গঠন কাদের মাধ্যমে করা হবে—তা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় স্পষ্ট হবে।
এই ঘটনার ফলে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বনিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা-আন্দোলনের মতো কয়েকটি বিষয় নতুন করে সবার নজর কাড়ছে।
অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ও শান্তি-প্রতিষ্ঠা ও ছাত্র-শিক্ষক সংলাপ প্রত্যক্ষ করতে ব্যস্ত; আগামী ঘোষণায় বোঝা যাবে শিক্ষার নিয়মাবলী, প্রশাসনিক রদবদল ও ছাত্রনেতাদের দাবি কিভাবে মীমাংসা করা হবে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ



