ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeবিনোদনরাণীশংকৈলে 'ইত্যাদি' অনুষ্ঠানে উপচেপড়া দর্শক, ভাঙচুর-মারামারি

রাণীশংকৈলে ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে উপচেপড়া দর্শক, ভাঙচুর-মারামারি

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিক্ষা, তথ্য ও বিনোদনমূলক জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ এর পরবর্তী অনুষ্ঠানের কয়েকটি পর্ব,দর্শক উপস্থিতিতে ধারণকৃত অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার (৯জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজা টংকনাথের জমিদার বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠান চলাকালে অবৈধভাবে হাজারো দর্শকের প্রবেশ,প্রযাপ্ত জায়গার সমস্যা,বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, চেয়ার ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনা ঘটলে,পরে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় ‘ইত্যাদি’ কর্তৃপক্ষ।

এদিন সন্ধ্যার পর উপজেলার রাজা টঙ্কনাথ জমিদার রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও আয়োজক সূত্র মতে, অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার মানুষের ইত্যাদি’র শুভেচ্ছা প্রবেশ পাসের ব্যবস্থা করেছিল ‘ইত্যাদি’ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ হাজার নারী-পুরুষ দর্শকদের সমাগম হয়। প্রবেশ পাস না পেয়ে হাজার হাজার দর্শক পাস ছাড়াই রাজবাড়ি মূল ফটকের সামনে ভিড় জমায় এবং অনুষ্ঠানের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে,এতে পুলিশ বাধা দিলে এক পর্যায়ে উত্তেজিত হাজার হাজার দর্শক পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মূল ফটক ভেঙে এবং সীমানা প্রাচীরের গ্রিল খুলে টবগিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে।এতে পুলিশের সাথে দর্শকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এরপরও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে এক পর্যায়ে সবার জন্য ভিতরে প্রবেশ উন্মুক্ত হয়ে যায়। এরপর উপচেপড়া জনতার ভিড়ে দর্শকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা আরো বাড়লে, ঠেলাঠেলি,ভাঙচুর ও মারামারি শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ একাধিকবার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। উপায় না পেয়ে অনুষ্ঠানের মাঝপথে অনুষ্ঠান স্থগিত করে দেওয়া হয়। এরপর অনুষ্ঠান শুরু করলে আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় নেতারাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। পরে ব্যর্থ হয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন ‘ইত্যাদি’ পরিচালক হানিফ সংকেত।

এদিকে এমন পরিস্থিতির জন্য দর্শকরা কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন। ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে যাওয়া রেজাউল করিম, আব্বাস আলীসহ কয়েকজন বলেন আমরা ইত্যাদি অনুষ্ঠানে প্রবেশের পাস নিয়ে যাই। তারপরও আমাদের ভিতরে ঢুকতে চরম কষ্ট হয়েছে, প্রথম থেকেই কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা ছিল না।এটা কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার জন্যই এমনটি হয়েছে। ভিতরে থাকা দর্শক মাসুদ রানা ও রহুল আমীন বলেন,অনুষ্ঠানে অনেক মানুষ হবে,এমন ধারণা আগেই ছিল। তারপরেও যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটা তাদের ব্যর্থতা। এছাড়া এতো অল্প জায়গাতে এমন অনুষ্ঠান করা ঠিক হয়নি।

অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণায় ‘ইত্যাদি’ পরিচালক হানিফ সংকেত বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেও আপনাদের শান্ত করতে পারলাম না। আপনাদের জন্যই একটি সুন্দর আয়োজন করতে চেয়েছিলাম। তবে সেটা আর সম্ভব হলো না। পারলাম না। আমি ব্যর্থ। দর্শকরা চলে যাওয়ার পর রাত ১০ টায় পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্য, ভলেন্টিয়ার ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অল্প সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে ইত্যাদি অনুষ্ঠানের কয়েকটি পর্বের শুটিং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয় হানিফ সংকেতসহ ইত্যাদির টিম।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular