নিজস্ব প্রতিবেদক: ল্যাব এইড ক্যানসার হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগে রোগীদের সঙ্গে হয়রানি করা হচ্ছে। মোটা অংকের টাকা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের সঠিক সেবা দিচ্ছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে রোগী ও তাদের সঙ্গে আসা পরিবারের লোকজন। কথা অনুসারে শিডিউল না দেওয়া ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোগীদের বসিয়ে রাখা হয়রানির মূল কারণ।
কেউ সেখানে রেডিও থেরাপি নিতে গেলে তাকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষমাণ তালিকায় রেখে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অথচ প্যাকেজ ক্রয়ের টাকা নেওয়ার আগে এসব কথা রোগী ও তাদের পরিবারের লোকজনদের বলা হয় না।
বিভিন্ন রেডিও থেরাপি প্যাকেজে রোগী ভর্তি করে পরবর্তীতে মেশিন নষ্টের কল্পকাহিনী শোনানো হয়। এতে সময় মতো রেডিও থেরাপি নিতে পারছে না ক্যানসার আক্রান্ত রোগীরা। কোনো কোনো রোগীকে সারাদিন বসিয়ে রেখে রেডিও থেরাপি না দিয়ে বাসায় চলে যেতে বলে।
বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের সঙ্গে আসা পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এই সত্য জানা গেছে।
ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ রোগীদের যে সময় তালিকা ধরিয়ে দেয় তা নিজেরাই মানে না। রোগীর পরিবার সময়মত হাসপাতালে আসলেও তাদের কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। এই দেরি নিয়ে প্রশ্ন করলে তারা মেশিন নষ্ট কিংবা মেশিন সার্ভিসিংয়ে আছে এই গল্প শোনায়।
গত শনিবার ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যার স্লটে ভর্তি রোগীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। দায়িত্ব প্রাপ্তরা এই ভোগান্তির দায়ভার নিতে নারাজ।
রেডিও থেরাপির জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কার্ড ইস্যু করে। যেখানে সময় উল্লেখ থাকে। সেই সময়ে কার্ড জমা দিলে তার চার পাঁচ ঘণ্টা পর রোগীকে রেডিও থেরাপি মেশিনে শোয়ানো হয়। এতে রোগীর সঙ্গে আসা পরিবারের লোকজন এক দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে। এত সময় নিয়ে তাদের পক্ষে হাসপাতালে অবস্থান করা সম্ভব নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ল্যাব এইড হাসপাতালে রেডিও থেরাপি নিতে আসা লোকজনের ভিড় বেশি। এই ভিড়ের কারণে তারা ঠিক মতো শিডিউল তৈরি করতে পারে না। বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকদের হাত করে এই ভিড় বাড়িয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এজন্য ওই সমস্ত চিকিৎসকদের নানা রকম উপঢৌকন দিয়েছে তারা। ধানমন্ডির আশপাশে আরো অনেক হাসপাতালে রেডিও থেরাপি দেওয়া হয়। সেগুলোতে ভিড় নেই এই কারণে।
ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ বলে থাকে তাদের মেশিন সবার চাইতে উন্নত। এইজন্য তাদের হাসপাতালে রোগী আসে বেশি। বাস্তবে দেশের অন্য প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে সম মানের রেডিও থেরাপি মেশিন বসানো হয়েছে। ল্যাব এইডের মতো মার্কেটিং পলিসি তারা অনুসরণ করে না বলে তারা রোগী পায় না। ল্যাব এইড মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এই মার্কেটিং করে যাচ্ছে।



