নিউজ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান হিসেবে দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন উদ্যোক্তা করে সাত দফার একটি বাস্তবমুখী প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। তিনি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোডম্যাপ প্রণয়ন, মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি এবং রাখাইন রাজ্যে আন্তর্জাতিক সিভিলিয়ান উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ সদর দফতরে “The Situation of Rohingya Muslims and Other Minorities in Myanmar” / ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধনী অংশে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস তার বক্তব্যে অভিবাসন-না হওয়া দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক মাত্রাগুলো তুলে ধরেন এবং বিশ্বকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ফান্ডিং সংকটের কারণে আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অব্যাহত রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে; তাই শান্তিপূর্ণ সমাধান হিসেবে প্রত্যাবাসনই একমাত্র বাস্তব উপায়।
আরো পড়ুন : রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস সাতটি প্রস্তাববোধ তুলে ধরেছেন, যা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন এবং রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নির্দেশনামূলক:
প্রথম প্রস্তাব- বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন — রাখাইনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ তৈরি করা।
দ্বিতীয় প্রস্তাব- মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ — সহিংসতা বন্ধ ও সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
তৃতীয় প্রস্তাব- আন্তর্জাতিক সহায়তা মোবিলাইজেশন — রাখাইন প্রদেশ স্থিতিশীলকরণে এবং আন্তর্জাতিক সিভিলিয়ান উপস্থিতি নিশ্চিতে তহবিল ও প্রযুক্তি সমর্থন।
চতুর্থ প্রস্তাব- আত্মবিশ্বাস গঠনমূলক উদ্যোগ — রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সামাজিক ও প্রশাসনিক অন্তর্ভুক্তি, অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।
পঞ্চম প্রস্তাব- দাতা দেশ ও সংস্থার সমর্থন নিশ্চিতকরণ — যৌথ পরিকল্পনার পূর্ণ অর্থায়ন।
ষষ্ঠ প্রস্তাব- জবাবদিহিতা ও ক্ষতিপূরণ — গণহত্যা-প্রতিযোগিতা মোকাবেলা করতে আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহিতা ত্বরান্বিত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সপ্তম প্রস্তাব- নেশা-অর্থনীতি ভাঙা ও সীমানা অপরাধ রোধ — নরকো-অর্থনীতি ও সীমান্ত অপরাধ নির্মূল করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আরো পড়ুন : রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২৭ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাজ্যের
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে—অতএব এর স্থায়ী সমাধানও মিয়ানমারের ভূখণ্ডেই খুঁজে পেতে হবে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সরাসরি মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে, প্রত্যাবাসনকে মিয়ানমারের বিস্তৃত রাজনীতির টানাহেঁচড়া অথবা বড় রাজনৈতিক সংস্কারের খামিয়াজে আটকে রাখা উচিত নয়। একইসঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে দুনিয়ার দাতা-অর্থ কমে আসায় আশ্রয়শিবির পরিচালনা আর অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয়।
এই প্রেক্ষাপটে- দেশীয় সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনগুলো কক্সবাজারে ও জাতিসংঘে ইউনূসের একই ধরনের আহ্বান এবং সাতদফা প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে — কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত অংশীজন সংলাপে তিনি আগেই এ দিকগুলো উল্লেখ করেছিলেন, যা পরে জাতিসংঘে পুনরায় প্রকাশ পেয়েছে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ



