নাজমুল হোসেন : লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টার অভিযানে জেলার ছয়টি থানা এলাকা থেকে ১৩৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ছয়টা থেকে জেলার সদর, চন্দ্রগঞ্জ, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর থানার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। ৭ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনের অভিযানে মোট ৭৮৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে আটক করা ৬৫৩ জনের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৪৪৭ জনকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। আর ২০৬ জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশত কিশোর গ্যাং চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রের সদস্যসংখ্যা এক হাজারের বেশি বলে ধারণা পুলিশের। তবে এখনো এসব চক্রের মূল হোতাদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করা, নিজেদের মধ্যে মারামারি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে এসব কিশোরের বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযান এখনো চলমান। এ পর্যন্ত ৭৮৮ জনকে আটক করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয়দাতাদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।



