ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধলালবাগে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টা, আটক ১

লালবাগে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টা, আটক ১

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর লালবাগে ১২ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করে বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে আলমগীর (৪৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে লালবাগ থানা পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লালবাগ থানার হরমোহন শীল স্ট্রিট রোডের ১৩ নম্বর বাসা থেকে ওই বাড়ির মালিক ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়। পরে পুলিশকে খবর দিলে আলমগীরকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম জুনায়েদ হোসেন (১২)। তিনি কামরাঙ্গীরচর নবীনগর মারকাজুশ শরাফাহ মাদ্রাসার ছাত্র। তার বাবা মো. জুম্মন হোসেন একটি গাড়ির ওয়ার্কশপে কাজ করেন। পরিবার নিয়ে তারা কামরাঙ্গীরচরের আলীনগরে বসবাস করেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে জুনায়েদ সবচেয়ে বড়।

জুনায়েদের বাবা মো. জুম্মন হোসেন যুগান্তরকে জানান, “আমার ছেলে প্রতিদিন তিন শিফটে মাদ্রাসায় ক্লাস করে—ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা, সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা এবং দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা টার দিকে সে বাসা থেকে মাদ্রাসায় যায়। পরে সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় গিয়ে খোঁজ নিলে তাকে পাইনি। রাত ১১টার দিকে খবর পাই লালবাগে একটি বাসায় ছেলেকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা তাকে উদ্ধার করি এবং পুলিশকে খবর দিই।”

শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে লালবাগ থানার (এএসআই) মোঃ দিপু যুগান্তরকে জানান, এটি সরাসরি অপহরণের ঘটনা নয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জুনায়েদ রাগ করে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যায় এবং বাইতুল মোকাররম এলাকায় আলমগীরের সঙ্গে দেখা হয়। পরে আলমগীর তাকে প্রলোভন দেখিয়ে লালবাগের ওই বাসায় নিয়ে আসে। উদ্দেশ্য ছিল বলাৎকার করা।

তিনি আরও জানান, “আমরা আলমগীরের মোবাইল ফোনের সারাদিনের লোকেশন ট্র্যাক করি। সেখানে গুলিস্তান, সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন স্থানে তার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে, তবে কামরাঙ্গীরচরে যাওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি। এতে বোঝা যায়, ভুক্তভোগীর বাবার প্রাথমিক বক্তব্যে অপহরণের অভিযোগ সঠিক নয়।”

এএসআই দিপু বলেন, “মাদ্রাসার শিক্ষকরা ও জুনায়েদ আমাদের কাছে স্বীকার করেছে, বিকেলে রাগ করে সে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর বায়তুল মোকাররমে গিয়ে আলমগীরের সঙ্গে দেখা হলে তাকে লালবাগের বাসায় নিয়ে আসে। গভীর রাতে আমরা অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করি, যখন বলাৎকারের চেষ্টা চলছিল। ঠিক আগ মুহূর্তেই শিশুটিকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।”

পুলিশ জানায়, আটক আলমগীরের গ্রামের বাড়ি ফেনীতে। তিনি পেশায় একজন ড্রাইভার এবং লালবাগের ওই বাসায় এক মাস ধরে ভাড়া থাকতেন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular