ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখোলা কলামশহীদ বদিউল আলম বীর বিক্রমের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

শহীদ বদিউল আলম বীর বিক্রমের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

 

ঢাকা নিউজ ডেস্কঃ শহীদ বদিউল আলম বীর বিক্রম বেঁচে থাকুক ‘আগুনের পরশমণি’ হয়ে। 
২৯ আগস্ট, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে আটকের পর নির্মম নির্যাতনে শহীদ হন।
বদিউলের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জুন, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের শিলাসী গ্রামের মাতুলালয়ে। নানা মৌলভী আব্দুস ছালাম ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক।
বাবার নাম আবদুল বারী। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। মা রওশন আরা গৃহীণি। বদিউল আলম বদির ঘরোয়া নাম ছিল তপন। তিনি ১৯৬০ সালে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হন। মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ১৯৬৬ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য করাচি যান। ১৯৭০ সালে ঢাকায় ফিরে আসেন।
ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে এইচএসসিতে স্ট্যান্ড করা অসম্ভব মেধাবী ছাত্র বদিউল আলম একাত্তরে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। উনসত্তুরের গনঅভ্যুত্থানই পাল্টে দিল সব, অগুনতি যুবকের মত স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন পাখা মেলে বদিউল আলমের ভেতর। একাত্তরের ২৫শে মার্চে কালোরাত্রির পর পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগদানের নিয়োগপত্র হাতে এলেও প্রত্যাখান করেন। হেলাল হাফিজের ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’র বিজুমন্ত্রে গড়া বদি দেশমাতৃকার জন্য যুদ্ধের শপথ নেয়।
বাবা আবদুল বারী,মা রওশন আরা ছেলেকে দেশের জন্য উৎসর্গ করলেন।
ক্র্যাকডাউনের পর প্রথম যে চারজনের দলটা যুদ্ধ করতে ঢাকা ছাড়ে,তার মধ্যে বদি ছিল অন্যতম। মেলাঘরে মেজর ক্যাপ্টেন হায়দারের হাতে ট্রেইন্ড সবচেয়ে চৌকষ গেরিলাদের একজন বদি সহযোদ্ধাদের নিয়ে ঢাকায় পাকিস্তানীদের নাভিশ্বাস তুলে ফেলে। ঢাকা শহর ও এর আশপাশের বেশ কয়েকটি দুর্ধষ অপারেশনে অংশ নেয়। উল্লেখযোগ্য ছিলো ৮ আগস্ট ফার্মগেটে পাক বাহিনীর চেকপোস্ট অপারেশন, ১৪ আগস্ট গ্যাস বেলুনের মাধ্যমে ঢাকা শহরের আকাশে বাংলাদেশের অনেকগুলো পতাকা উড়ানো, ১৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে অপারেশন, ২৫ আগস্ট ধানমন্ডির ১৮ ও ২০ নম্বর রোডে অপারেশন। এসব দুঃসাহসিক অভিযান ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছে। ২৫শে আগস্ট অপারেশন ডেস্টিনেশন আননোনের দাপটে অতিষ্ঠ পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এদেশীয় আলবদর আর রাজাকারদের এই ক্র্যাক প্লাটুন গেরিলাদের তালাশে লাগায়।
সেই আলবদর বাহিনীর তথ্যমতে ২৯ আগস্ট ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবন থেকে বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাঁকে তুলে নিয়ে যায়।কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং রুট এবং অস্ত্র যোগানের বিষয়গুলো জানতে চাইছিল। না বলায় শরীরের হাড় মাংস থেতলে দিয়েছিল। ইলেকট্রিক
প্লায়ারস দিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল সবগুলো নখ! তবুও মুখ খুলেননি বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম বদি।
তথ্যসূত্রঃ বদিউল আলমের মেঝো মামা প্রয়াত শিক্ষক,লেখক সাজেদুল হক স্যার।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular