ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়শাহজালালে ভল্ট ভাঙা, চুরি কিনা তদন্ত করছে সরকার

শাহজালালে ভল্ট ভাঙা, চুরি কিনা তদন্ত করছে সরকার

নিউজ ডেস্ক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ড ও চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তের জন্য চার-পাঁচটি দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দু-একটি দেশের বিশেষজ্ঞ এরই মধ্যে চলে এসেছেন। তদন্তের পর জানা যাবে চুরি হয়েছে, নাকি হয়নি। যদি চুরি হয়ে থাকে, তাহলে কার মাধ্যমে হয়েছে, কে দায়ী, তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কোর কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। কোর কমিটির সভায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্য, নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এদিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুড়ে যাওয়া কার্গো কমপ্লেক্স থেকে সাতটি অস্ত্র চুরির ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জিডি করা হয়েছে বিমানবন্দর থানায়। খোয়া যাওয়া অস্ত্রের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এমফোর কার্বাইন ও ব্রাজিলের টরাস পিস্তল রয়েছে। তবে সেগুলো কোন বাহিনীর তা জানা যায়নি। গত ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন লাগে। সেখানে থাকা বিভিন্ন আমদানি-রপ্তানিপণ্যের পাশাপাশি কিছু সরকারি সংস্থার মালপত্র সংরক্ষিত ছিল। পরে জানা যায়, সেখানে রক্ষিত একটি ভল্ট ভেঙে সাতটি অস্ত্র চুরি হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাসে ৪০টির মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তথ্য এসেছে, কারা এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী বা যেকোনো বাহিনী বা যার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড হোক না কেন, প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে ফয়সালা করা হবে।

নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা থাকছে কিনা–এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা এখনই আছে। নির্বাচনের সময় বন্ধ হবে কেন? আমরা বন্ধ করছি নাকি? নির্বাচন আসুক, সে সময় জিজ্ঞাসা করিয়েন।

সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানিয়েছেন, বৈঠকে পুলিশের আইজি বাহারুল আলম বলেন, আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে পুলিশের জন্য প্রায় ৪০ হাজার ‘বডি ক্যামেরা’ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব ‘বডি ক্যামেরা’ কেনার জন্য টাকা বরাদ্দে দেরি করছে অর্থ বিভাগ। অথচ জাতীয় নির্বাচনের আর বেশি সময় নেই। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অর্থ বরাদ্দের কাজ দ্রুত শেষ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাধারণ পুলিশ সদস্যদের দাবি ছিল, বর্তমান পোশাক পরিবর্তন করা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার চলতি বছরের শুরুতে পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীর পোশাক বদলরে সিদ্ধান্ত নেয়। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ৯ মাস পর সেই নতুন পোশাক চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য গতকাল কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। তবে কোর কমিটির সদস্যরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বলেছেন। পুলিশের পোশাকের রং নির্ধারণ হয়েছিল আয়রন, র‍্যাবের জলপাই আর আনসারের সোনালি গমের। বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের আগে বইমেলা না করার ব্যাপারেও সভায় সুপারিশ আসে।

নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধারের অগ্রগতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা চট্টগ্রামের রাউজানে ১১ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়ে বলেন, রাউজান, ফটিকছড়ি একটু কঠিন এলাকা। আগেও ছিল, এখনও আছে। এসব জায়গায় অপরাধ করে অপরাধীরা পাহাড়ে চলে যায়।

নির্বাচনে পুলিশ যদি কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে–এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কারও কোনোরকম গাফিলতি থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে। আগে জিডি করে রাখা হতো, এবার সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হবে। নির্বাচন হতে হবে উৎসবমুখর।

বিগত নির্বাচনে যেসব ওসি বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের অনেকেই এখন ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় ওসি। তাদের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা–এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা বলেছি ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ নির্বাচনে যারাই ছিল, তাদের অধিকাংশকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করব। আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা সবাইকে তো পারব না। প্রথম যারা তিনটা নির্বাচনে জড়িত ছিল তাদের বাদ দেব। তারপরে যারা দুটির সঙ্গে জড়িত ছিল তারা, তারপরেও যদি দেখি জনবল রয়ে গেছে, তখন একটার সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়ে দেব। আমি তো নিয়োগ দিয়ে নতুন ওসি নিয়ে আসতে পারব না। তারপর দেখব, যে একটা নির্বাচনে জড়িত ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযোগ নেই, তাঁকে তো আমাদের কাজে লাগাতে হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শিগগির পুলিশ কমিশন হয়ে যাবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে পালিয়ে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশের বাইরে যারা পালিয়ে আছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এছাড়া দেশকে নানাভাবে বিশৃঙ্খল করার জন্য দেশে এবং দেশের বাইরে থেকেও সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্য আসছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular