ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশমৌলভীবাজারশীতে কাঁপছে শ্রীমঙ্গল বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

শীতে কাঁপছে শ্রীমঙ্গল বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:  সারা দেশে বেশ কয়েক দিন ধরে বইছে শৈত্যপ্রবাহ।এর মধ্যে দেশের শীতলতম স্থান হিসেবে অন্যতম হচ্ছে মৌলভীবাজার।এখানে মৌসুমে শীতের পরিমাণ একটু বেশি থাকাটাই প্রকৃতির সংস্কৃতি। তারই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা বেড়ে চলছে। তাইতো পহেলা ডিসেম্বর বিকেল থেকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ও অন্যান্য উপজেলার পাহাড়ী অঞ্চলে বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে।

এদিকে সোমবার সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের মানুষ বস্ত্রে অভাবে খোলা আকাশের নিচেই রাত-দিন পার করছেন। কনকনে তীব্র শীতে কাঁপতে কাঁপতে তারা বলেন, অনেক কষ্ট করে ঠান্ডার মধ্যে আছি বা। শীতবস্ত্রের অপেক্ষায় তাকিয়ে আছেন তারা। তবুও মিলছে না একটি কম্বলও। এই কন কনে শীত উপেক্ষা করেই আবার কাজের সন্ধানে বেড়িয়েছে শ্রমিজীবী ও দিনমজুররা। কাজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে কাজ না পেয়ে ফিরে গেছেন। আবার অনেকে কাজ পেয়েও শীতের তীব্রতার কারণে হার মানতে হচ্ছে। এছাড়া ইজিবাইক চালক, ভ্যানচালক ও রিকশা চালকরা যাত্রীদের অপেক্ষায় দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেছেন। তারাও পাননি কাঙ্ক্ষিত যাত্রী। শীতের দাপটে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকার ওপর প্রভাব পড়েছে। এছাড়া ছিন্নমূল ও ভাসমান মানুষেরা খোলা আকাশের নিচে রাত পার করছে। তাদের কষ্ট সবথেবে বেশি। 

শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার পর্যবেক্ষক মো: আনিছুর রহমান বলেন, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।এর আগে, গতকাল তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই সঙ্গে মৌলভীবাজারে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত প্রবাহ চলছে। ঘন কোয়াশা কেটে গেলে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে উত্তাপহীন সূর্যের দেখা মিললেও বিকালের আগেই তা ঢাকা পড়ছে কুয়াশার চাদরে, সঙ্গে হিমেল হাওয়া। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া, এমন বিরূপ আবহাওয়ায় নাকাল জনজীবন।

তারা আরও জানান, শীত শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে এখানকার প্রকৃতির রূপ। সকালে সবুজ ঘাসে জমছে নিশির শিশির। ভোরে কুয়াশাও পড়ছে। তবে জেলার চা বাগানগুলোতে শীত একটু বেশি অনুভূত হচ্ছে। শীতের কারণে জেলায় সকল প্রকার কর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বাহির হচ্ছেন না। দিনের বেলা সূর্যের তাপে তেমন শীত অনুভূত না হলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই ঠান্ডার তীব্রতা বাড়তে শুরু করে। রাত যতই গভীর হয় ঠান্ডার ততই বাড়তে থাকে। এ অবস্থা চলে পরের দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত। বিশেষ করে চা বাগান অধ্যুষিত উপজেলার চা বাগানগুলোতে এবং গ্রামগুলোতে শীতের কাঁপুনি বেশি। জেলার বাইক্কাবিল, হাইল হাওর, হাকালুকি হাওর ও কাউয়াদিঘি হাওর আর অন্যদিকে চা বাগান ও পাহাড়। সবমিলিয়ে এখানকার নিম্ন আয়ের নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সদস্য, চা শ্রমিক ও হাওর পাড়ের জেলেরা শীতে কাবু হয়ে গেছেন। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়তে শুরু করেছে।

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular