ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিশেয়ারবাজারে ফিরছেন বিদেশিরা

শেয়ারবাজারে ফিরছেন বিদেশিরা

অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশের শেয়ারবাজােরে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দেশের বাজারে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে স্থানীয় বা দেশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও। 

চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনে (১২ কার্যদিবস) বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব বেড়েছে ৫৫টি। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে ৪টির বেশি বিদেশি ও প্রবাসী বিও হিসাব বেড়েছে। এই ১২ কার্যদিবসে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ৩ হাজার ১৬টি। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ২৫১টির বেশি।

বিও হলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্রোকারেজ হাউস অথবা মার্চেন্ট ব্যাংকে একজন বিনিয়োগকারীর খোলা হিসাব। এই বিও হিসাবের মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে লেনদেন করেন। বিও হিসাব ছাড়া শেয়ারবাজারে লেনদেন করা সম্ভব না। বিও হিসাবের তথ্য রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)।

সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে (১৭ মার্চ পর্যন্ত) শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৫২টি, যা ফেব্রয়ারি শেষে ছিল ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১১১টি। এ হিসাবে চলতি মার্চ মাসে শেয়ারবাজারে বিও হিসাব বেড়েছে ৩ হাজার ১৪১টি। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড়ে বিও হিসাব বেড়েছে ২৬২টি।

এদিকে বর্তমানে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ৪৩ হাজার ১৯৭টি, যা ফেব্রুয়ারি মাস শেষে ছিল ৪৩ হাজার ১৪২টি। অর্থাৎ চলতি মাসে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ৫৫টি।

চলতি মাসে বাড়লেও দীর্ঘদিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কম ছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা ধারাবাহিকভাবে শেয়ারবাজার ছাড়তে থাকেন, যা অব্যাহত থাকে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেও।

২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব ছিল ৫৫ হাজার ৫১২টি। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৪৩ হাজার ১০১টিতে নেমে আসে। অর্থাৎ বিদেশি ও প্রবাসীদের বিও হিসাব ১২ হাজার ৪১১টি কমে যায়। এখন আবার তাদের ফিরতে দেখা যাচ্ছে। এরপরও ২০২৩ সালের তুলনায় এখনো দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ১২ হাজার ৩২৫টি কম রয়েছে।

বিদেশি ও প্রবাসীরা দেশের শেয়ারবাজার ছাড়লেও সম্প্রতি স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বাড়তে দেখা যাচ্ছিল। চলতি মার্চ মাসেই সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশি বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৩১টি, যা ফেব্রুয়ারি শেষে ছিল ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ১৫টি। আর ২০২৫ সাল শেষে ছিল ১৫ লাখ ৭৯ হাজার ২৩টি। অর্থাৎ চলতি বছরে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ১৩ হাজার ৮টি।

এখন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বাড়লেও এর আগে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজার ছেড়েছেন। ২০২৪ সালের শুরুতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫১টি। আর বর্তমানে বিও হিসাব আছে ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৫২টি। অর্থাৎ ২০২৪ সালের শুরুর তুলনায় বর্তমানে বিও হিসাব কম আছে ১ লাখ ২০ হাজার ২৯৯টি।

এদিকে বর্তমানে শেয়ারবাজারে যে বিনিয়োগকারীরা আছেন, তার মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ১২ লাখ ৪৪ হাজার ২২৬টি। গত বছর শেষে এই সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪৩টি। অর্থাৎ চলতি বছরে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের হিসাব বেড়েছে ১০ হাজার ৪৮৩টি।

অন্যদিকে বর্তমানে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯১ হাজার ২টি। ২০২৫ সাল শেষে এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৯টি। এ হিসাবে চলতি বছরে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ২ হাজার ১৭৩টি।

নারী-পুরুষ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি চলতি বছরে কোম্পানির বিও হিসাবও বেড়েছে। বর্তমানে কোম্পানি বিও হিসাব রয়েছে ১৮ হাজার ২৪টি। ২০২৫ সাল শেষে এই সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৮০৩টি। এ হিসাবে চলতি বছরে কোম্পানি বিও হিসাব বেড়েছে ২২১টি।

বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের যে বিও হিসাব আছে তার মধ্যে একক নামে আছে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ২১৭টি, যা ২০২৫ সাল শেষে ছিল ১১ লাখ ৮২ হাজার ৭১৫টি। অর্থাৎ চলতি বছরে একক নামে বিও হিসাবে বেড়েছে ১১ হজার ৫০২টি।

অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের যৌথ নামে বিও হিসাব আছে ৪ লাখ ৪১ হাজার ১১টি। ২০২৫ সাল শেষে যৌথ বিও হিসাব ছিল ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮৫৭টি। অর্থাৎ চলতি বছরে যৌথ বিও হিসাব বেড়েছে ১ হাজার ১৫৪টি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular