ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখেলাশেষ বাঁশি বাজাতেই মেসি কেন কান্নায় ভেঙে পড়েন ?

শেষ বাঁশি বাজাতেই মেসি কেন কান্নায় ভেঙে পড়েন ?

নিউজ ডেস্ক: আর্জেন্টিনার বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গিয়েছিল প্রায়। ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরও শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকে। তবে মঙ্গলবার রাতে আটলান্টা স্টেডিয়ামে চরম নাটকীয় ও বিতর্কিত ম্যাচে মিসরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি। সেই চোখের পানিতে আসলে মিশে ছিল এক ধরনের স্বস্তি। সংবাদমাধ্যমকে মেসি বলেছেন, আমার মনে হয়, এটি একটি মুক্তি ছিল, সবার জন্যই একটি স্বস্তি। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা একটি কুৎসিত মুহূর্ত ছিল।

প্রথমার্ধে মেসির নেওয়া পেনাল্টি শট মিসরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবির আটকে দেন দারুণ দক্ষতায়। ওই ঘটনার আগে-পরে লক্ষ্যভেদ করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দলটি। তাছাড়া, ভিএআরের সহায়তা নিয়ে রেফারি তাদের একটি গোল বাতিলও করে দেন। তবে ম্যাচের শেষভাগে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন মেসিই।

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে মেসির ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো গোল করে ব্যবধান কমান। চার মিনিট পর রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী মেসি নিজেই গোল করে আলবিসেলেস্তেদের সমতায় ফেরান। আর দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এঞ্জো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোলটি করে। তখন বাঁধনহারা উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা দল।

মেসির মতে, এভাবে একটি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ফিরে আসা সহজ ছিল না। বিশেষ করে, এই বিশ্বকাপ যেভাবে চলছে এবং কোনো দল এমনি এমনি কাউকে ছেড়ে দিচ্ছে না এই সত্যিটা বিবেচনা করলে।

আবেগ সামলাতে না পেরে কেঁদে ফেলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন এটি ছিল খাঁটি আনন্দ এবং স্বস্তির একটি মুহূর্ত। আমরা বিশ্বকাপে থাকতে চেয়েছিলাম। আমরা চাইনি আজই সব শেষ হয়ে যাক, আমরা বাড়ি যেতে চাইনি।

চলতি বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম এবং সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ২১তম গোলের স্বাদ নিয়েছেন মেসি। এর মাধ্যমে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে আবারও কিছুটা এগিয়ে গেছেন । মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে তিনবার জাল কাঁপিয়ে জয়ের পর সতীর্থরা তাকে শূন্যে ছুড়ে উদযাপনে মেতে ওঠেন।

তবে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার পেছনে রোমেরোর গোলটিকে মূল মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন মেসি, আজকের ম্যাচটি ছিল আমাদের মানসিক দৃঢ়তার আরেকটি প্রমাণ, পিছিয়ে পড়ার পর এভাবে ফিরে আসা সহজ নয় সৌভাগ্যবশত, আমরা ওই গোলটি পেয়ে যাই। আমার মনে হয়, ওটাই ছিল সেই মুহূর্ত, যখন ভেতরের সবাই এটি অনুভব করেছিল এবং বিশ্বাস করেছিল যে, ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব ।

আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে গিয়েছি। এই দল যা অর্জন করেছে তা স্রেফ অবিশ্বাস্য, যোগ করেছেন মেসি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular