নিজস্ব প্রতিবেদক: শতাধিক পণ্যে বর্ধিত ভ্যাট-শুল্ক প্রত্যাহারসহ জনজীবনের সংকট নিরসন, সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতার কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদ, সংস্কার ও নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, নিহতদের ক্ষতিপূরণ, আহতদের পুনর্বাসনের দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদ( মার্কসবাদী) ও বাম জোটের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক কাজী রুহুল আমীন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু ও বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বাসদ( মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য রাশেদ শাহরিয়ার। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স,বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সাত্তার।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। এই অভ্যুত্থানে প্রায় দুহাজার মানুষ শহীদ হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে। অনেকে চোখ হারিয়েছে, অনেকে পঙ্গু হয়েছে। অন্তবর্তী সরকার পাঁচ মাসেও শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করতে পারেনি। আহতদের চিকিৎসার সুব্যবস্থা করতে পারেনি। আহতরা চিকিৎসার দাবিতে রাস্তায় আন্দোলন পর্যন্ত করছে। অথচ সরকারের টনক নড়ছে না।”
বক্তারা আরও বলেন, “শেখ হাসিনা সরকার ব্যবসায়ীদের অবাধ লুণ্ঠনের সুযোগ করে দিয়েছিল। লুটপাটের দায় সামাল দিতে ক্রমাগত জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়েছে। এর বিরুদ্ধেই জনগণ অভ্যুত্থান করেছে। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার অর্থনীতি বহাল আছে। সেই ধারাবাহিকতায় শতাধিক পণ্যে ভ্যাট ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছে। অবিলম্বে তা বাতিল করতে হবে। এবং সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাইলে জনগণ আবারও রাজপথে নেমে আসবে।
নেতৃবৃন্দ সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতার কর্মসূচিতে ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’ কর্তৃক সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার করার দাবি জানান।”



