ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশময়মনসিংহসংযোগ সড়ক না থাকায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সেতুটি কোন কাজে আসছে...

সংযোগ সড়ক না থাকায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সেতুটি কোন কাজে আসছে না

গৌরীপুর প্রতিনিধি:   সংযোগ সড়ক না থাকায় ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়রে বগাপুতা খালের ওপর সাড়ে পাঁচ কোটি টাকায় নির্মিত সেতুটি কোন কাজে আসছে না। যানবাহন চলাচল না করায় সেতুর ওপর চলছে ধান মাড়াই ও শুকানোসহ পারিবারিক কাজ।

স্থানীয়রা জানান, ঈশরগঞ্জ-আঠারবাড়ি ১৫কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কটি ঝকঝকে সুন্দর। কিন্ত ওই সড়কের দুঃখ হল বগাপুতা খালেরর ওপর নির্মিত সেতুটি। সেতুর দুইপাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি জনগণের কোন কাজে আসছে না। কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। বাধ্য হয়েই পাশের পুরোনো নড়বড়ে সেতু দিয়ে যানবাহন ও পথচারীরা চলাচল করছে। এতে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালে ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঈশ^রগঞ্জ-আঠারবাড়ি ১৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মানের কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে ২০২২ সালের শুরুতেই সোহাগী এলাকার বগাপুতা খালের ওপর নির্মিত হয় ৩১.৮২৮ মিটার এই সেতুটি। যার ব্যায় ধরা হয় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তাহের এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠানটি এই সেতুর কাজ করেন।

দরপত্র অনুযায়ী যথাসময়ে সড়ক ও সেতুর অবকাঠামোর কাজ শেষ করা হলেও সংযোগ সড়কের জন্য সময় বাড়িয়ে নির্ধাারন করা হয়েছে ২০২৬ সাল পর্যন্ত। কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, দুই বছর আগেই সড়কসহ সেতু নির্মানের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভুমি অধিগ্রহন সংক্রান্ত জঠিলতায় ঠিকাদার সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক করতে পারছে না। সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ শতভাগ শেষ হলেও ভুমি অধিগ্রহন জটিলতায় সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ আটকে আছে।
জমি ও স্থাপনার মালিকরা বলছেন, প্রায় দুই বছর ধরে ক্ষতি পূরনের টাকা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার ধরনা দিয়েও কাজ হচ্ছে না। জমির মালিক আব্দুল গফুর, মিরাস উদ্দিন ও মজিবুর রহমান জানান, তাঁদেরকে জমি অধিগ্রহনের নোটিশ দিয়ে জমি নিলেও পরে আর কোনো খবর নেয়নি। এই জন্য তাঁরা ক্ষতিপূরনের টাকা না পেয়ে এক ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন। যার কারনে টাকা না পাওয়া পর্যন্ত এখন আর কাজ করতে দেওয়া হবে না।

বগাপুতা গ্রামের জমির মালিক হেলিম মিয়া জানান, সেতু নির্মাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হলেও ভুমি অধিগ্রহন আর স্থাপনার ক্ষতি পূরনের টাকা দুই বছরেও বুঝে পাননি। ক্ষতি পূরনের টাকা না পাওয়ায় কাজে বাধা দিয়েছেন। তারপরও কর্তৃপক্ষের কোনো টনক নড়ছে না।

সেতুর কাজটির তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বিজয় বসাক বলেন, জমি অধিগ্রহনের জন্য ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখা হয়েছে। এখন সেখান থেকে ইস্টিমেট অনুযায়ি ভূমির মালিকদের টাকা বুঝিয়ে দিলেই আমরা কাজ শুরু করতে পারবো।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular