ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
HomeUncategorizedসংসদে বিল পাস: সরকারি চাকরিতে সরাসরি বরখাস্তের বিধান

সংসদে বিল পাস: সরকারি চাকরিতে সরাসরি বরখাস্তের বিধান

নিউজ ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন বিধান সংযোজন করে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এতে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অবাধ্যতায় সরাসরি বরখাস্তের বিধান নিশ্চিত করা হয়েছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের সভাপতিত্বে বিলটি উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এবং পরে কণ্ঠভোটে এটি অনুমোদন পায়।

নতুন আইনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য কঠোর শৃঙ্খলাবিধি আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশ অমান্য করা, সরকারি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা কিংবা যৌক্তিক কারণ ছাড়া সম্মিলিতভাবে কর্মবিরতি পালনকে ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি বরখাস্তসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

সংশোধিত আইনে মূল আইনের সঙ্গে নতুন ‘৩৭ক’ ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বা অন্যদের কর্তব্য পালনে বাধা দেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আইনে তিন ধরনের শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে-নিম্নপদে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত। এছাড়া তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মচারীকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে এবং অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিকে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তা তাদের চাকরির নথিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন, তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

সরকারের মতে, প্রশাসনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা বাড়াতে এই আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular