জুলাই সনদ, গণহত্যার বিচার ও সংস্কার ছাড়া দেশে নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দেশ সংস্কার না করে কোনো নির্বাচন হবে না। কোনো রাজনৈতিক পক্ষ এর শামিল হতে চাইলে, আমরা তার বিরুদ্ধে যাব।
বুধবার (৯ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গায় শহীদ হাসান চত্বরে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে ন্যায়বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধান- এই তিনটি লক্ষ্য অর্জন করতেই হবে। আমরা এমন এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াই করছি, যেখানে বৈষম্য, ফ্যাসিবাদ, অন্যায়, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস থাকবে না। এই দেশ গড়তে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় ছাত্র-যুবকদেরই এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গাসহ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় গত ৫৪ বছর ধরে সীমান্তে হাজারের উপরে নিরপরাধ কৃষক ও বিভিন্ন মানুষ হত্যা করা হয়েছে। এই ৫৪ বছরে কোনো সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিএসএফ কোনো সীমান্তরক্ষী বাহিনী নয়, তারা হত্যাকারী হিসেবে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষদের খুন করায় যেন তাদের একমাত্র কাজ। চুক্তি অনুযায়ী আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এই ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনে ওই শেখ হাসিনা সরকার ১৬ বছর ক্ষমতায় টিকে থেকে গুম, খুন ও মানুষকে হত্যা করেছে। সীমান্ত হত্যা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিব না।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ২০২৪ সালে আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে হটিয়ে ভয় ভেঙে দিয়েছি। এখন আর ভয় দেখিয়ে নতুন সংস্কৃতি চালু করতে দেওয়া হবে না। মানুষের উচিত স্থানীয় সমস্যা নিয়েও নির্ভয়ে কথা বলা। এমন একটি রাজনীতি চাই, যা হবে জনগণের জন্য। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আর কাউকে যেন দাসের মতো বাঁচতে না হয়। নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এনসিপি জনগণের জন্য রাজনীতি করবে।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন, সদস্য সোহেল রানা, চুয়াডাঙ্গার প্রবীণ নেতা মোল্লা ফারুক, যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মুজাহিদুল ইসলাম, এনসিপির চুয়াডাঙ্গা জেলা সমন্বয়কারী খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব, চুয়াডাঙ্গা জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব সাফফাতুল ইসলাম প্রমুখ।



