নিউজ ডেস্ক : পাহাড়ী গ্রামের ঠিক শেষ প্রান্তে, যেখানে ঘাসেরা ঝুঁকে পড়ে নদীর স্রোতের সাথে কথা বলে, সেখানেই থাকে সাঁওতাল দম্পতি – বুধু ও জগো। বুধু একজন কৃষক, প্রতিদিন ভোরে ঘুম ভাঙে পাখির ডাকে, আর হাতে বাঁশি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে মাঠে। আর জাগে, তার প্রাণের সাথি, মাটি দিয়ে তৈরী হাঁড়ি-বাটি গুলো মাজা-ঘসা করছে, মাঝে মাঝে গেরস্ত ঘরের বৌ-ঝিদের কাজে সাহায্য করে।
সন্ধ্যাবেলা তাদের প্রিয় সময়। মাঠের কাজ শেষে বুধু যখন বাঁশি বাজাতে বাজাতে বাড়ি ফেরে, তখন জগো তার পাশে এসে দাঁড়ায়, দুইজনে নদীর ধারে বসে। কোনো কথা নয়, শুধু সুর আর চোখে চোখ রাখা। ওই বাঁশির সুরে যেন বুধুর ভালোবাসার কথা বলে ওঠে – “তুই আছিস বলেই তো আমার সকাল-সন্ধ্যা জুড়ে গান বাজে, জগো।”
একদিন গ্রামের মেলায় গিয়ে জগো একটা ছোট রঙিন ফিতা কিনে আনল বুধুর বাঁশির জন্য। ফিতাটা বাঁধা হতেই বাঁশির সুরটা যেন আরও মিষ্টি হয়ে উঠল। সুর ছুঁয়ে গেল গ্রামের গাছপালা, পশুপাখি, এমনকি তাদের ছোট কুঁড়েঘরটাকেও।-
গ্রামের লোকেরা বলে, এদের ভালোবাসা নাকি বর্ষার নদীর মতো – উজান বেয়ে চলতে জানে, কিন্তু কখনোই শূন্য হয় না। বাঁশির সুরে আর জগোর হাসিতে ভরে থাকে সেই ছোট পাহাড়ী গ্রাম।



