মো: জহিরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের রিজেন্ট পার্ক ও রিসোর্টে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ১৬ জন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীকে আটক করেন স্থানীয় এলাকাবাসী ।
এ ঘটনায় রিসোর্টিতে ব্যাপক ভাঙচুর করে কয়েকটি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ।
রোববার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানাধীন রিজেন্ট পার্ক ও রিসোর্টে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, রিজেন্ট পার্কের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নামে পার্ক হলেও এখানে তরুণ-তরুণীরা অবৈধ মেলামেশায় লিপ্ত থাকেন। স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও প্রেমিক-প্রেমিকারা এসব কক্ষ ভাড়া নিয়ে নিরাপদে অসামাজিক কার্যকলাপ করেন। এদিন রোববার দুপুর ২টার দিকে পার্ক ঘেরাও করে ১৬ শিক্ষার্থীকে আটক করে দক্ষিণ সুরমার এলাকার লোকজন। পরবর্তীতে পরিবারের জিম্মায় তাদের মধ্যে ৮জনকে ছেড়ে দেন তারা। বাকি আটজনকে স্থানীয় কাজী ডেকে বিভিন্ন পরিমাণের দেনমোহর ঠিক করে বিয়ে দিয়ে দেন স্থানীয়রা। বিয়ে দেওয়া চার যুগলের মধ্যে-সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ, ওসমানী নগর উপজেলার বাসিন্দা রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলাম ইউনিয়নের কাজী আব্দুল বারী বলেন, বিবাহিতদের মধ্যে তিনজনের ১০ লাখ করে এবং একজনকে ১২ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
মোগলাবাজার থানার (ওসি) মো. খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মোগলাবাজার থানা পুলিশ যায়। তবে স্থানীয় মুরুব্বিরা ওই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে তাদের জিম্মায় দিয়ে দেন। তবে তিনি বিয়ের বিষয় সম্পর্কে জানেন না।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি তাজুল ইসলাম তাজুল বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে মুরব্বিয়ানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরে আটক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের এনে আটজনকে বিয়ে পড়িয়ে দেই এবং বাকিদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঊর্মি রায় বলেন, ‘রিসোর্টে শুনেছি কী একটা ঝামেলা হয়েছে। তবে বিয়ের বিষয়ে কেউ আমাকে অবগত করেননি।’
সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ এনে ১৬ জন ছাত্রছাত্রীকে রিসোর্টে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় কয়েকজনকে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেন এলাকাবাসী। পরে পুলিশ জানতে পারে কাজী ডেকে কয়েকজনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিয়ের বিষয়টি পুলিশ আগে জানতো না। তবু কেউ যদি মনে করে তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।



