নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদিগামী ও ট্রানজিটের মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব ফ্লাইটের ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া যাত্রী যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন ছুটি শেষে সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরতে যাওয়া প্রবাসীরাও।
সোমবার ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবের জেদ্দাগামী একটি ফ্লাইট ধরতে বিমানবন্দরে আসেন নারীসহ ১৯ জনের একটি দল। ভারতের মুম্বাই হয়ে তাদের জেদ্দায় যাওয়ার কথা ছিল। ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ওই ফ্লাইটটি বিকেল ৪টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়। এতে বিমানবন্দরে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
বিকেল ৫টা ৫১ মিনিটে বিমানবন্দরের ২ নম্বর বহির্গমন টার্মিনালের ড্রাইভওয়েতে কথা হয় ওই দলের দলনেতা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, পাবনা সদর এলাকা থেকে নারীসহ ১৯ জনের দলটি দুপুর ১২টার দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছায়। রাজধানীর আবাবিল নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের টিকিট কেটেছিলেন তারা। মুম্বাই হয়ে জেদ্দায় যাওয়ার কথা ছিল। টার্মিনালে প্রবেশের পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাউন্টারে গেলে কর্মীরা তাদের ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি জানান।
এদিকে সৌদি আরবের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দিতে কিশোরগঞ্জ থেকে বিমানবন্দরে এসেছিলেন মতিয়ার রহমান নামের এক যাত্রী। সৌদি এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে তার সৌদি আরবে ফেরার কথা ছিল। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে কিশোরগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তিনি জানান, দুই মাসের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে এসেছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর পান।
মতিয়ার রহমান বলেন, ভিসার মেয়াদ আর মাত্র পাঁচ দিন রয়েছে। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে কর্মস্থলে যোগ দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
বিমানবন্দরে বিভিন্ন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু ইন্ডিগো নয়, আরও কয়েকটি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সৌদি আরবে যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর পান অনেকে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব ফ্লাইট বাতিলের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত শনিবার থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইনস মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারলাইনসের তিনটি—মোট ১২টি ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে।
এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ১৬টি, সালাম এয়ারের তিনটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের পাঁচটি—মোট ৩৯টি ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শনিবার রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন।




