ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশহাটহাজারীতে ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ১২৭

হাটহাজারীতে ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ১২৭

ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট ছোড়াছুড়ি হয়েছে। এতে অন্তত ১২৭ জন আহত হয়েছেন। গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) জশনে জুলুছে অংশ নেওয়া লোকজনের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় কয়েকটি গাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। ওই সময় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। রাত ২টা পর্যন্ত দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। পরে তাদের সরিয়ে দেয় সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষকরা। ইসলামী ফ্রন্টের নেতাদের দাবি, জশনে জুলুছে অংশ নিতে যাওয়া গাড়ি লক্ষ্য করে মাদ্রাসা থেকে গরম পানি নিক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষকদের দাবি, জুলুছে যাওয়ার পথে মাদ্রাসার বায়তুল কারীম জামে মসজিদ লক্ষ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করে উস্কানি দেওয়া হয়েছে। পরে হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে, রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসা। সেখানে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দৃষ্টিকটু অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে মাদ্রাসার ছাত্রদের উস্কানি দেওয়া হয়েছে। মসজিদের দিকে অশালীন ভঙ্গি দেখানো হয়েছে। রাতে জুলুসের একাধিক গাড়ি থেকে পথচারীদের ‘ওহাবি, ওহাবি’ বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

আটক আরিয়ান ইব্রাহিমকে কর্মী দাবি করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তির দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রসেনা। গতকাল বিকেলে নগরের বিবিরহাট এলাকায় আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। এ সময়ের মধ্যে জামিন না দিলে সারাদেশে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

গতকাল সন্ধ্যায় হাটহাজারী মাদ্রাসা ও গাউছিয়া কমিটির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের বৈঠক হয়েছে। এতে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে– ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আহতদের চিকিৎসা এবং ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় শব্দদূষণ রোধ করা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular