আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনে হুথি আন্দোলনকে দুর্বল করতে দেশটির উত্তরাঞ্চলে শিয়া জায়দি ও সুন্নি সালাফিদের মধ্যে বিভাজন তৈরির পরিকল্পনা করেছিল সৌদি আরব। এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে কিছু গোপন নথির বরাত দিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ দাবি করেছে, ২০১২ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সালমান বিন আবদুল আজিজ একটি গোপন সরকারি কমিটিকে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের সংঘাত আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল আনসারুল্লাহ বা হুথিদের সঙ্গে উত্তর ইয়েমেনের বৃহত্তর জায়দি শিয়া জনগোষ্ঠীর দূরত্ব তৈরি করা। একই সঙ্গে হুথিবিরোধী উপজাতিদের শক্তিশালী করা।

২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ইয়েমেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৩৩ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতা ছাড়েন। এরপর তার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মনসুর হাদি ক্ষমতায় এলেও দেশটির রাজনৈতিক বিভক্তি কাটেনি।
এই পরিস্থিতিতে উত্তর ইয়েমেনের সাদা অঞ্চলে শক্তিশালী হয়ে ওঠে হুথি আন্দোলন। সৌদি আরবের আশঙ্কা ছিল, সীমান্তবর্তী এই গোষ্ঠী ভবিষ্যতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালমানের পরিকল্পনার দুটি দিক ছিল। প্রথমত, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইয়েমেনি উপজাতিদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দেওয়া। দ্বিতীয়ত, হুথি নেতৃত্বাধীন আনসারুল্লাহ এবং সাধারণ জায়দি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।
নথিতে বলা হয়েছে, সংঘাতকে সরাসরি সুন্নি-শিয়া যুদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন না করার বিষয়েও সতর্কতা ছিল। কারণ এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে উত্তর ইয়েমেনের শিয়া জায়দি জনগোষ্ঠীর বড় অংশ হুথিদের পাশে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বা সামরিক গোষ্ঠী হিসেবে রাখাই ছিল এই কৌশলের লক্ষ্য, যাতে তারা পুরো জায়দি সম্প্রদায়ের রক্ষক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে না পারে।
তবে পরবর্তীতে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ আট বছরের যুদ্ধে ইয়েমেন ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়ে।
ড্রপ সাইট নিউজের দাবি, তাদের হাতে থাকা সৌদি গোপন নথিগুলো ইয়েমেন নীতিতে রিয়াদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তবে সৌদি সরকার এসব নথি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।




