ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতি২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে পাশ হচ্ছে বিশাল বাজেট, প্রাধান্য পাচ্ছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে পাশ হচ্ছে বিশাল বাজেট, প্রাধান্য পাচ্ছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি

ঢাকা নিউজ রিপোর্ট: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সম্প্রসারণমূলক বাজেট দিতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার, ১১ জুন সংসদে পাশ হবে এ বাজেট, এবারের বাজেটের আকার ধরা হচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এটি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়ে দেড় লাখ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। পরে বাজেট সংশোধন করে তা ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনে সরকার।

অর্থমন্ত্রণালয়ের সুত্রমতে: আগামী এক বছরে সরকারের আয়-ব্যয়, কর কাঠামো, রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি, ঘাটতি বাজেট, মূল্যস্ফীতি, নবম পে-স্কেল, বিনিয়োগ, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি ঋণ,সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প, সৃজনশীল অর্থনীতি, ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, খাল কাটা কর্মসূচি এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বিষয়গুলো তুলে ধরে এবারের সার্বজনীন বাজেট।

আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা বেশি। আর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ৩ লাখ কোটি টাকা ধরা হচ্ছে। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৭০ হাজার কোটি টাকা বেশি এবং সংশোধিত বাজেট থেকে ১ লাখ কোটি টাকা বেশি। আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা বেশি। আর সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪৩ হাজার কোটি টাকা বেশি।
আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে আগামী অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ধরা হয়েছে। তবে রাজস্ব আহরণে কাঠামোগত সংস্কার না আসায় এই বিশাল ব্যয়ের সংস্থান করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থ বিভাগ সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও পরে তা সংশোধন করে ৬৩ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় আগামীতে ৫৩ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ঋণ নিতে হবে সরকারকে। অভ্যন্তরীণ ঋণ কমানোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে রাজস্ব আদায় বাড়াতে ব্যাপক সংস্কারে হাত দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ঘাটতি ছিল ২ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সেই ঘাটতি মেটাতে গিয়ে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে বিপুল ঋণ নিতে হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে আগামী অর্থবছরের বাজেটে। প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন বাজেট ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ, এর মধ্যে বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তা নামে ১৭ হাজার কোটি টাকা। বিশেষ থোক বরাদ্দের নামে ২০ হাজার ৭৫১ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা বাস্তবায়ন করা হবে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায়। ১৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, কৃষক কার্ডের জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং ধর্মীয় ভাতার জন্য ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভার সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, নতুন এডিপিতে নির্বাচনী ইশতেহারের পাঁচটি মূল স্তম্ভকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো সমন্বিত রাষ্ট্রীয় সংস্কার, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংহতি।

বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে প্রথম ধাপে সামাজিক উন্নয়ন খাতের অংশ হিসেবে ৫০ লাখ পরিবারকে পরিবার কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত বরাদ্দ অনুযায়ী প্রায় ৪৮ লাখ ৩০ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে। গড় পরিবার সদস্য সংখ্যা ৪ দশমিক ২৬ হিসাবে সরাসরি উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ। ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে বিএনপি। সরকার এরই মধ্যে পরিবার কার্ড কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম শুরু করেছে। একইভাবে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়ার পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশের ১০ জেলার ১১ উপজেলায় ২২ হাজারের বেশি কৃষকের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যেক কৃষকের হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানো হয়।

এবারের এডিপিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব খাতেও প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের তুলনায় থোক বরাদ্দের পরিমাণ বেশি, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। এ অবস্থায় আরও বড় আকারের উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। প্রস্তাবিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি এবং কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৭টি। পাশাপাশি নতুন ১ হাজার ২৭৭টি অননুমোদিত প্রকল্পও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত প্রাক্কলন অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের ৩১ হাজার ২২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। এডিপিতেও স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উন্নয়ন বরাদ্দ ১১ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৬০৮ কোটি টাকায় উন্নীত হওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এটি হলে বরাদ্দ বাড়বে প্রায় ৭৭ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে বরাদ্দ বাড়ার এই হার সবচেয়ে বেশি।

শিক্ষা খাতেও বড় পরিসরে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য চলতি বাজেটে ৪৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হলেও ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকায় দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা থেকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ বৃদ্ধির হার প্রায় ১৯ শতাংশ।এডিপিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ১১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকায় উন্নীত হতে পারে, যা প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি।

স্থানীয় সরকার বিভাগ বরাবরের মতোই বেশি বরাদ্দপ্রাপ্ত খাতের মধ্যে রয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ ৪২ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা থেকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪৩ হাজার ১৩০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বরাদ্দ ৩৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা থেকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৯ হাজার ৭৯ কোটি টাকা হতে পারে।

খসড়া প্রস্তাবনা অনুসারে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বাড়ার হারও উল্লেখযোগ্য। এ খাতে বরাদ্দ ১২ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা থেকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৮ হাজার ৭৭ কোটি টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগে বরাদ্দ কিছুটা কমতে পারে। চলতি অর্থবছরে ২০ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও পরবর্তী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে তা কমিয়ে ১৯ হাজার ২৪৪ কোটি টাকায় আনার প্রাথমিক প্রস্তাব রয়েছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সমন্বয় করে এ পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক বাজেট প্রস্তাব নয়; সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য আলাদা পরিকল্পনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে অর্থ বিভাগ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৪০ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৪২ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা ৩৯ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা করা হয়। এর আগের অর্থবছরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মোট ব্যয় হয় ৩৪ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা।

বাজেট নিয়ে বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন, সরকারের আয়ের সংস্থান ও ব্যয়ের পরিকল্পনার মধ্যে কোনো বাস্তবসম্মত মিল নেই। ফলে এই বাজেট শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য কোনো দলিল হয়ে উঠতে পারবে না। বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা বিশ্লেষণ করলে একে সম্প্রসারণমূলক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের বাজেট বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। আগামী এক বছরের মধ্যে রাজস্ব আহরণে যে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে, তা আদায় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। রাজস্ব আদায়ের বর্তমান গতিপ্রকৃতি বলছে, এই লক্ষ্যমাত্রা কেবল উচ্চাভিলাষীই নয়, বরং তার চেয়েও বেশি কিছু।রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা কৃত্রিমভাবে বড় দেখিয়ে বাজেটের ঘাটতিকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিমাণ রাজস্ব না এলে বাজেটের মূল কাঠামোই ভেঙে পড়বে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বোনাস, পেনশন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎস (ব্যাংক ব্যবস্থা) থেকে ঋণ নিতে হবে। এর ফলে বাজারে মুদ্রার প্রবাহ বেড়ে যাবে, যা চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। অর্থনীতিতে বর্তমানে প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর। এই সংকটের মধ্যে এমন বাজেট সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না।

বাজেট সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন অর্থবছরের প্রস্তাবিত মেগা বাজেট অর্থনীতিকে গতি দেওয়ার উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ হলেও এর অর্থায়ন কাঠামো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রাজস্ব আহরণে কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া বড় বাজেট বাস্তবায়ন করলে ঋণ ও সুদের ফাঁদে পড়ার ঝুকি আরও বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। আয়ের সক্ষমতা না বাড়িয়ে বাজেটের আকার বাড়ানো হলে ঋণের বোঝা আরও বাড়বে। দেশি-বিদেশি ঋণ বেশি হলে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই বিদেশি মুদ্রার রেট হার, সুদের হার এবং মূল্যস্ফীতি হারের মধ্যে সমন্বয় থাকা খুব জরুরি।বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ দ্রুত বাড়ছে। বাজেটের বড় অংশই ঋণ পরিশোধে চলে যাচ্ছে। তাই সাশ্রয়ী ও বাস্তবসম্মত এডিপি প্রণয়ন জরুরি। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে এবং প্রকল্পের নামে অপচয় বন্ধ করতে হবে।

ঢাকা নিউজ/শহীদ 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular