ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসর্বশেষবাগেরহাটে কৃষক হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, আসামিদের ফাঁসির দাবি

বাগেরহাটে কৃষক হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, আসামিদের ফাঁসির দাবি

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কামটা গ্রামে কৃষক মাহাতাব শেখ (৪২) হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় এলাকাবাসীর আয়োজনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২১ মে) বিকালে কামটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়কে এই মানববন্ধনে শত শত সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বক্তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসির দাবি জানান।

বক্তারা জানান, হত্যার মূল আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ এখনো মামলার অধিকাংশ আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত, যারা প্রশাসনেরও ছত্রছায়ায় রয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, কামটা গ্রামে মোস্তফা শেখ ও কওসার মোল্লার বংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর থেকেই এই বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। কিছুদিন আগে মোল্লা পক্ষের লোকজন নিহত মাহাতাব শেখকে মারধর করে হাত ভেঙে দেয়।

নিহত মাহাতাব শেখ স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তফা শেখের মেজ ভাই। বক্তাদের অভিযোগ, ইউপি সদস্য মোস্তফা শেখ বর্তমানে জেল হাজতে থাকায় সেই সুযোগে তার ভাই মাহাতাবকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

নিহতের ভাইপো মহাসিন শেখ বলেন, “১৬ মে রাতে মাহাতাব চাচা নিজ পোলট্রি ফার্মে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ করে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌড়ে শওকাতের বাড়িতে আশ্রয় নেন, সেখান থেকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।”

নিহতের ভাগনে সুইট অভিযোগ করেন, মাহাতাব শেখকে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ প্রতিপক্ষ দাবি করছে, সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। সুইট বলেন, “তার শরীরে সাপের কামড়ের কোনো লক্ষণ ছিল না, অথচ পুলিশ মূল আসামিদের ধরছে না।”

ঘটনার পর নিহতের ভাই রিপন শেখ ফকিরহাট মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় কামটা গ্রামের ইমরান মোল্লা রিপনসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকিরা এখনও পলাতক।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিহতের স্বজন মহাসিন শেখ, সুইট, রমিছা বেগম, কাদের শেখ, রস্তুম শেখ, লিটন শেখ, ইব্রাহিম, সাগর, আজিজুল মিয়া, বিল্লাল, আইয়ুব মিয়া, মোতালেবসহ এলাকার অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular