মোঃ ইউসুফ আলী, আটোয়ারী(পঞ্চগড়) প্রতিনিধি ঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে সমাজ সেবা অফিসের আয়োজনে প্রান্তিক পেশাজীবি জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (২য় ফেইজ) প্রকল্পের অবহিতকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ( ২২ মে) বিকেলে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুজ্জামান এর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নের সম্ভাব্য অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রধান অতিথি পঞ্চগড় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার(অ.দা.) মোঃ আবু তাহের’র সঞ্চালনায় সেমিনারে আলোচনা করেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম ফুয়াদ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ গোলাম ফারুক, জেলা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোঃ ওয়ালিউল হক, বোদা উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা তৌকির আহমেদ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুভ্র প্রকাশ চক্রবর্তী। উম্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ আজাদ, আলোয়াখোয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোজাক্কারুল আলম তোড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ্, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ইউসুফ আলী, আটোয়ারী প্রেসক্লাবের সভাপতি আনিসুর রহমান প্রমুখ। অংশগ্রহণকারী পেশাজীবি কামার-কুমার, নাপিত, জুতা মেরামত আত্মকর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্র ঋণের সুযোগ গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এসময় প্রধান অতিথি বলেন, ‘ প্রান্তিক জনগোষ্ঠির উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই শেষে প্রান্কি পেশাজীবিদের নিজ নিজ কর্মস্থলে গিয়ে ৬ মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেককে পুঁজি হিসেবে এককালীন ১৮ হাজার টাকা সরকারি আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এসময় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন পেশাজীবি সহ গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লার দক্ষিনাঞ্চল বৃহত্তর লাকসাম উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিষাক্ত কেমিকেল ও কার্বাইড ভরা রসের ফল-ফলাদি খেয়ে এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং নিত্য পন্যের মতো বিষাক্ত ফল-ফলাদিও দাম অনেক চড়া। তারা সরকারী নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধান না মেনে হরেক রকম ফল ব্যবসায়ীরা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলাগুলোর প্রধান প্রধান হাটবাজারে কোন ফল-ফলাদির বাগান না থাকলেও রয়েছে বিশাল কৃষি অঞ্চল। এখানে শাক-সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপন্য উৎপাদন করে চলেছে স্থানীয় কৃষকরা। ফলে গড়ে উঠেছে বড় বড় ফল-ফলাদি ও শাকসবজির আড়ৎ। সরবরাহ করা হচ্ছে দেশী-বিদেশী কৃষিপন্য ও ফল-ফলাদি। আবার কেউ কেউ বাহির থেকে বিভিন্ন পন্য আমদানী করার সময় হরেক রকম দেশী-বিদেশী বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে এবং নিজেদের গোপন আড়তে সংরক্ষিত এলাকায় ওইসকল বিষাক্ত দ্রব্য প্রয়োগে পাকানো ফল-ফলাদি ও শাকসবজি বাজারজাত করে চলেছে। বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যে পাকানো ফল-ফলাদি দেখতে সুন্দর হলেও খেতে কোন স্বাদ নেই। বিষাক্ত কেমিক্যালে পাকানো বিষে ভরা রসালো ফল-ফলাদি খেয়ে এ অঞ্চলের শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধরা বিভিন্ন ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। এছাড়া ফল-ফলাদিতে পোকামাকড় ও রোগ বালাই দমনে ব্যবহৃত বিভিন্ন কীটনাশক মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হলেও ওইসব অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হওয়ার স্বার্থে বিষাক্ত দ্রব্যের ব্যবহার আরো বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ক্রেতারা ওইসব পন্য কিনে প্রতারিত, পুষ্টিমান যাচাইসহ স্থানীয় প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নাগরিক ও সুশীল সমাজ। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনে তাপদাহ ও ভেপসা গরমে সবাই পরিবার-পরিজন নিয়ে সু-স্বাধু ফল-ফলাদি খেয়ে থাকেন এটাই স্বাভাবিক।
স্থাণীয় বে-সরকারি হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানায়, ফল-ফলাদিতে ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম কার্বাইড এক ধরনের কেমিক্যাল। এটি পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে ইথিলিন গ্যাস আর চুন তৈরী করে। আবার ইথিলিন গ্যাসকে পলিমারে বিক্রিয়া করা হলে পলিথিন তৈরী করা যায়। এক কথায় এ দ্রব্যটি পলিথিন তৈরীর কাঁচামাল। ফরমালিন এক ধরনের প্রিজারভেটিভ। এটি ফরমাল ডিহাইডের সাথে পানি মিশ্রনে এলডিহাইড তৈরী হয়। এটাকে মিথানলের সংগে জারন করলে তৈরী হয় বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। সেই মিথানলও একটি বিষাক্ত কেমিক্যাল। যা বাজারে ষ্পিরিট নামে কিংবা কাঠের বার্নিস হিসাবে পরিচিত। এসকল বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে রসালো বিভিন্ন ফল-ফলাদি পাকানো হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
এ ব্যাপারে জেলা-উপজেলার স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার মুঠো ফোনে বার বার চেষ্টা করেও বিস্তারিত কোন তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।



