ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিডঅপেক্ষা করতে করতে হাসপাতালের বারান্দায় সন্তান প্রসব

অপেক্ষা করতে করতে হাসপাতালের বারান্দায় সন্তান প্রসব

সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার লেবার ওয়ার্ডের বারান্দায় সন্তান প্রসব করেছেন দুই নারী। অপেক্ষা করতে করতে তারা বারান্দায়ই সন্তান প্রসব করেন। প্রসবের পর এক নারীর নবজাতক শিশু মারা গেছে। দুই নারীর অভিভাবকরা চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলার অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনার ছবি তোলার পর সেবা নিতে যাওয়া স্থানীয় দুই গণমাধ্যমকর্মী রোষানলের শিকার হয়েছেন। বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাটিবহর গ্রামের সাহিন মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগমকে (১৯) নিয়ে বুধবার দুপুর ২টার দিকে লেবার ওয়ার্ডে যান তার স্বজনরা। একই সময়ে গোলাপগঞ্জের দক্ষিণ রামপাশা গ্রামের রতন চন্দ্র দাসের স্ত্রী সুপ্রিতা রানী দাসও (২৫) যান। লেবার ওয়ার্ডের বারান্দায় তারা অপেক্ষা করতে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লেবার পেইন উঠার পর বার বার সংশ্লিষ্টদের জানান তাদের স্বজনরা। কিন্তু তাদের অপেক্ষা করতে বলা হয়। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বারান্দায় চেয়ারে বসা অবস্থা সুমি বেগম সন্তান বাচ্চা প্রসব করেন। এর ১০ মিনিট পর সুপ্রীতি রানী দাসও সন্তান প্রসব করেন। এতে সহযোগিতা করেন অন্যান্য রোগীর সঙ্গে যাওয়া নারীরা। তারা নিজের কাপড়ের অংশ বিশেষ টানিয়ে সন্তান প্রসবে সহায়তা করেন। প্রসবের পর এক নারী চিকিৎসক গিয়ে তাদের ভেতরে নিয়ে যান। ঘণ্টাখানেক পর মারা যায় সুমী বেগমের সন্তান। ওই সময়ে স্ত্রীকে নিয়ে লেবার ওয়ার্ডে ছিলেন স্থানীয় দৈনিক সবুজ সিলেটের সাংবাদিক হিলাল উদ্দিন শিপু। সঙ্গে ছিলেন তার ভাই শ্যামল সিলেটের সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন টিপু। তারা বিষয়টি জানতে গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্স খারাপ আচরণ করেন বলে জানান সাংবাদিক টিপু। তিনি সমকালকে বলেন, সিনেমা স্টাইলে দুই নারীর সন্তান প্রসব বারান্দায় করিয়েছেন বিভিন্ন রোগীর নারী স্বজনেরা। অথচ সংশ্লিষ্টরা ছিলেন উদাসীন। অভিযোগ পাওয়ার পর হাসপাতাল ফাঁড়ি পুলিশ সেখানে যায়।

সুমি বেগম সমকালকে জানান, তিনি দুপুর ২টার দিকে লেবার ওয়ার্ডে যান। দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। বারান্দায় প্রসবের পর ডাক্তার আসেন। এ বিষয়ে তার বাবা আজাদ মিয়া পুলিশে অভিযোগ করেছেন বলে জানান সুমি। বর্তামানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী জানান, অনেক সময় ডেলিভারি রোগী বেশি থাকেন। তখন পর্যায়ক্রমে ডেলিভারি করা হয়। সে কারণে বিলম্ব হওয়ায় বাইরে সন্তান প্রসব করেন দুই নারী। পরে তাৎক্ষণিক তাদের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি হাসপাতালের পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular