ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশঢাকাদেশব্যাপী পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন

দেশব্যাপী পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশব্যাপী পরিবহন শ্রমিকদের চোখের যত্ন ও দৃষ্টিশক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে “চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান কার্যক্রম” উদ্বোধন করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি বাস টার্মিনাল প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

প্রাথমিকভাবে ঢাকায় এই কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রধান বাস টার্মিনাল ও জেলা পর্যায়ে এটি চালু হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক এড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)-এর চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা (অতিরিক্ত সচিব), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম, ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান।

এ ছাড়াও সড়ক পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, “আজকের এই মহতী উদ্যোগ সারা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিন। আমাদের পরিবহন শ্রমিক ভাইদের চোখের যত্ন ও দৃষ্টিশক্তি উন্নয়নের এ কর্মসূচি সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রতিদিন যারা রাস্তায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিশ্রম করেন, সেই চালক ও শ্রমিক ভাইদের জন্য আজকের চক্ষু পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা প্রদান কার্যক্রম অত্যন্ত মানবিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এতে শ্রমিকদের সুস্থ দৃষ্টিশক্তি নিশ্চিত হবে, কর্মদক্ষতা বাড়বে, আর সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিআরটিএ দেশের সড়ক পরিবহন খাতের মূল কর্তৃপক্ষ হলেও তাদের হাতে পর্যাপ্ত শক্তি ও জনবল নেই। বিআরটিসিরও জনবল ও গাড়ির ঘাটতি রয়েছে, ফলে তারা বিকল্প সময়ে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে পিছিয়ে পড়ে। এই কর্মসূচি বিআরটিএ, পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে সরকার যদি এ দিকটিতে জোর দেয়, তাহলে আমাদের পরিবহন সেক্টর আরও এগিয়ে যাবে।”

শেষে তিনি বলেন, “একটি উন্নত বাংলাদেশের প্রত্যাশায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।”

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন,“সারাদেশের পরিবহন শ্রমিক ভাইয়েরা বহু সরকারি ও সামাজিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আজকের এই যৌথ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। ভিশনস্প্রিং বিশ্বের অনেক দেশে ড্রাইভারদের চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান কর্মসূচি চালাচ্ছে। এখন বাংলাদেশেও তা শুরু হলো।”

তিনি আরও জানান, “প্রথম পর্যায়ে গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে দুই হাজার চালকের চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনে চশমা প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে সায়দাবাদ, মহাখালীসহ দেশের অন্যান্য বাস টার্মিনাল ও জেলা পর্যায়েও এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।”

ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাওদা বলেন, “ড্রাইভারদের দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হলে তা শুধু তাদের নিজের জন্য নয়, বরং যাত্রী ও সড়কে চলাচলকারী সবার নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই আমরা এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবহন শ্রমিকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, প্রয়োজনে চশমা প্রদান এবং চোখের যত্ন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছি। এটি শ্রমিকদের জীবনের মান উন্নয়ন এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে বাস্তব ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও জানান, “ভিশনস্প্রিং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশের পরিবহন সেক্টরেও এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা শ্রমিকদের দৃষ্টিস্বাস্থ্য রক্ষা ও সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

আয়োজকরা জানান, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কমপক্ষে ৫০ হাজার পরিবহন শ্রমিকের চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা, চোখের যত্ন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular