ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকলেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল

লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল

নিউজ ডেস্ক : দখলদার ইসরাইল আবারও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ভোররাতে টানা কয়েক দফা এই হামলায় অন্তত একজন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের দাবি, এই হামলার মধ্য দিয়ে ইসরাইল সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় চারটি শহর—আয়তা আল-জাবাল, তায়বেহ, তায়ের দেব্বা ও জাওতার-আল-শারকিয়ায় হামলা চালায় ইসরাইলি বিমান। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে জাওতার-আল-শারকিয়া শহরের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরাইলি সেনারা। কিছুক্ষণ পরই সেখানে বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এসব হামলা মূলত টায়ার জেলার বেসামরিক আবাসিক এলাকায় হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন।

এ ঘটনার পর লেবানন সরকার ও হিজবুল্লাহ ইসরাইলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক বিবৃতিতে বলেন, “আজকের হামলা আমাদের সার্বভৌমত্বের উপর স্পষ্ট আঘাত। ইসরাইল আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে চাইছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইল কখনোই শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহ দেখায়নি। তাদের অব্যাহত হামলাই প্রমাণ করছে, তারা সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে চায়।”

অন্যদিকে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা। তবে হিজবুল্লাহ জানায়, ইসরাইল যেভাবে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে, তা আত্মরক্ষার নামে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না।

হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কিন্তু যদি শত্রু আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়, তাহলে আত্মরক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের অধিকার।”

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাত নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। ফিলিস্তিনের হামাসের প্রতি সংহতি জানাতে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর হামলা শুরু করলে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এই সংঘাত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয়। এ সময় লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন, আহত হন প্রায় ১৭ হাজার।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, দক্ষিণ লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে ইসরাইলের পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও তারা এখন পর্যন্ত তা করেনি। বরং পাঁচটি সীমান্ত চৌকিতে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।

ঢাকানিউজ২৪/মহফ

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular