নিউজ ডেস্ক : রাজধানীসহ দেশের বড় মোবাইল মার্কেটগুলোতে প্রতিদিনের রোজকার ভিড় নেই—বসুন্ধরা সিটি, মোতালেব প্লাজা, স্টার প্লাজাসহ অনেক ব্যবসা সকাল থেকেই বন্ধ থাকা দেখা গেছে। মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে; ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো ক্রেতা নতুন ফোন কেনা বা মেরামত করাতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘এনইআইআর বাস্তবায়ন: মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা জানান, বিটিআরসি ১৬ ডিসেম্বর থেকে NEIR (National Equipment Identity Register) সিস্টেম চালু করবে এবং সার্ভার বাস্তবায়নে সরকারি কাজের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারিভাবে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হলে বিদেশ থেকে আনা অ-রেজিস্ট্রেশন ফোন ব্যবহার অচল হবে—এমন বিধান–নিয়ম তাঁদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এমবিসিবির বক্তব্য, মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিতে প্রস্তাবিত ৫৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ হলে ‘লাগেজ ফোন’সহ অনেক ফোনের মূল্য দ্বিগুণ–ত্রিগুণ হবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মোবাইল সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান বলেন, ব্যবসার মুনাফা অত্যন্ত সীমিত; উচ্চ শুল্ক আরোপ হলে ছোট ব্যবসায়ীরা টিকতে পারবে না এবং সাধারণ ক্রেতাও প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে পড়বে। সংগঠনের দাবি—সঠিক পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছাড়া NEIR সিস্টেম বাস্তবায়ন গ্রাহক এবং ব্যবসায়ীর জন্য উদ্বেগজনক ও জটিল হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রেজিস্ট্রেশন ও ডিরেজিস্ট্রেশনের জন্য আইএমইআই, এনআইডি ও সিম নম্বর মিলিয়ে জমা দিতে হবে—কাজটি অনেকে করতে পারবে না, বিশেষ করে যাদের সিম অন্যের নামে। প্রবাসীরা ব্যাগেজ রুল অনুযায়ী বিনা শুল্কে একাধিক ফোন আনলেও পরে সেগুলো রেজিস্ট্রেশন করাতে কঠিনতা দেখা দিতে পারে; ফলে ব্যাপারটি বাস্তবজীবনে সমস্যা সৃষ্টি করবে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করেন। সংগঠনটি জানায়, তাদের গঠনে বর্তমানে ২০ হাজারেরও বেশি সদস্য আছে এবং প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক স্বার্থ ও গ্রাহক প্রতারণা রোধে কাজ করে।
বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত রাতে এমবিসিবির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ পিয়াস ও অনলাইন সাংবাদিক মিজানুর রহমানকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে; পরে মিজানুরকে সকালে এবং পিয়াসকে সন্ধ্যায় ছেড়ে দেয়ার খবরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও ক্রেতা-দোকানির অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এ ঘটনার পর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগগুলো ‘ভিতিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেন।
তারপরও ব্যবসায়ীরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বন্ধুসুলভ সমাধান ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা দাবি করছেন—বিশেষ করে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সহজ করা, পর্যাপ্ত সার্ভিস সেন্টার স্থাপন, প্রবাসীদের জন্য সরলবদ্ধ রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা এবং প্রয়োগের সময়সীমায় গ্রেস পর্ব রাখা। তাদের যুক্তি, হুট করে জোরপূর্বক নীতি প্রয়োগ করলে বিপুল সংখ্যক এলেমেন্টাল ব্যবসা ও লক্ষ লক্ষ ভোক্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়ছে—নতুন ফোন কেনার পরিকল্পনা স্থগিত, মোবাইল মেরামতের অনিশ্চয়তা এবং একইসাথে বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও ভোক্তার মতামত গ্রহণ করে ধাপে ধাপে কাজ করা উচিত। অন্যথায় বাজারে ব্যাহত শৃঙ্খলা ও অনভিপ্রেত অর্থনৈতিক ফলাফল উদ্ভূত হতে পারে।
বর্তমানে দুপক্ষের মধ্যে দ্রুত ও খোলামেলা সংলাপের আহ্বান উঠেছে—বাজার সচল রাখা এবং গ্রাহকের ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত সিদ্ধান্তই সমাধান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

ঢাকানিউজ২৪/মহফ



