নিউজ ডেস্ক : নিউইয়র্ক, ইতিহাস রচনা করলেন জোহরান (জোহরান) মামদানি। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাতে ম্যানহাটনের ঐতিহাসিক এক পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কুরআন ছুঁয়ে তিনি প্রথমবারের মতো — রীতিমতো আধ্যাত্মিক ভাব ধারণ করে — নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নেন। কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা, চোখে ভবিষ্যতের প্রত্যয়—শপথগ্রহণের সময় তাঁর কথাগুলো ছিল সংক্ষিপ্ত, হৃদয়স্পর্শী ও সহজ। “এটি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান,” বললেন তিনি।
অতীতের ছায়া আর ভবিষ্যতের আলো—দুটোর সংমিশ্রণে শহরটির সবচেয়ে পরিচিত প্ল্যাটফর্ম ‘সিটি হল স্টেশন’-এর গির্জার মত দ্রুতশৈলীর খিলানভরা উচ্চতা যেন এক বিশেষ মুহূর্তে ঐতিহ্য ও পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে উঠল। শপথটি পরিচালনা করেন নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিয়া জেমস। এর পরের দিন দুপুরে সিটি হলে আরও ভিড়-শোভিত শপথ অনুষ্ঠান সম্ভব হবে—সেখানে শপথ পাঠ করাবেন মার্কিন সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, যে মামদানির রাজনৈতিক আদর্শিক পথপ্রদর্শকদের মধ্যে অন্যতম।
জোহরান মামদানি শুধু নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র নন; তিনি দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথম মেয়রও বটে — এবং মাত্র ৩৪ বয়সে কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে তিনি ‘অ্যাফোর্ডেবিলিটি’—সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা—কে কেন্দ্র করেছেন: বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ার, বিনামূল্যে বাস সেবা, ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করে দশ লাখ পরিবারকে সহায়তা এবং পরীক্ষামূলক সরকারি গ্রোসারি শপ চালুর প্রস্তাব এগিয়ে এসেছিল তাঁর ইশতেহারে।
জীবনবৃত্তান্তও অনুপ্রেরণীয়—উগান্ডার কাম্পালায় জন্ম, ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কে আসা, এবং নাইন-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে মুসলিম হিসেবে যে কঠোর বাস্তবতার মধ্যেই তিনি বেড়েছেন তা তাঁর রাজনৈতিক পরিচর্যার অংশ। চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার ও লেখক-শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির কন্যাসন্তান হিসেবে বড় হওয়া—এই পারিপার্শ্বিকতাও তাঁর জাগরণে ভূমিকা রেখেছে। ২০১৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।
এখন দায়িত্বের তালিকা বিশাল—আবাসন, জনপরিবহন, উপকূলীয় ও নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে ইঁদুর ও সাবওয়ে সমস্যা; তবে তাঁর শপথে প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট: দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের পাশে দাঁড়ানো এবং শহরকে মানুষের জন্য আরও সহনশীল করা। ক্যানিয়ন অব হিরোসে যে পাবলিক ব্লক পার্টি হবে, তা শুধু আনন্দ উৎসব নয়—নতুন মেয়রের প্রতি নাগরিকদের প্রত্যাশা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন হবে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




