নিউজ ডেস্ক : ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ হয়েছে।
শনিবার বিকেলে পাকিস্তানের রাজধানীতে শুরু হওয়া এ বৈঠক প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে এবং প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক পরিবেশে শেষ হয়।
আলজাজিরা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান এই আলোচনা আয়োজন ও মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে আলাদা বৈঠকও করেন।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদল ৭০ জনের বেশি সদস্যের ছিল।
বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো, লেবাননে সংঘাত প্রশমন এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ আংশিক মুক্তির সম্ভাবনা।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, লেবাননে হামলা কমানো এবং সেখানে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে কিছু সূত্র বলছে, ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ে অগ্রগতির ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
সূত্রে জানা যায়, তেহরান আগেই বলেছিল লেবানন ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নিশ্চয়তা ছাড়া আলোচনা হবে না। তবে বৈঠক শুরুর আগে কিছু মৌলিক শর্তে অগ্রগতির আভাস মেলায় সরাসরি আলোচনার পথ খুলে যায়। অন্যদিকে, শেহবাজ শরিফের দপ্তর আশা প্রকাশ করেছে যে এই আলোচনা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।
প্রথম দফার আলোচনা শেষ হওয়ার পর নৈশভোজে অংশ নেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা, এবং রোববার সকালে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের বৈরিতা, যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে ইসলামাবাদের এই বৈঠক তাই কেবল কূটনৈতিক আলাপ নয়, বরং নতুন সমঝোতার সম্ভাব্য দরজাও খুলে দিয়েছে।
এখন নজর রোববারের পরবর্তী দফা আলোচনার দিকে, যেখানে বাস্তব অগ্রগতি হলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সূত্র : আলজাজিরা
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




