ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

নিউজ ডেস্ক : বড় ধরনের তারল্য সংকটে পড়া ইসলামী ব্যাংক পিএলসিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে আড়াই হাজার কোটি টাকার সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সহায়তার এ অর্থের মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা নগদ অর্থ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আন্তঃব্যাংক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সেবা সচল রাখতে আরও ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, ব্যাংকটির শাখা ও এটিএম নেটওয়ার্কে নগদ অর্থের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক তারল্য চাপ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সহায়তা দিয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের নগদ উত্তোলন এবং দৈনন্দিন লেনদেন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছিল ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা তখন জানিয়েছিলেন, গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগের কারণে আমানত উত্তোলনের চাপ বেড়েছে এবং নগদ অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা প্রয়োজন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিতর্ক, গ্রাহকদের আন্দোলন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুজবের কারণে অনেক আমানতকারী টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে ব্যাংকটির ওপর নগদ অর্থের চাপ বাড়তে থাকে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যাংকটি থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি মূলত দেউলিয়াত্বের সংকট নয়; বরং নগদ অর্থের সাময়িক সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ। কোনও ব্যাংকের সম্পদ বা বিনিয়োগ পর্যাপ্ত থাকলেও স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক টাকা তুলতে এলে তারল্য সংকট তৈরি হতে পারে।

গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম. জুবায়দুর রহমান আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেন। একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এই নিয়োগের পর থেকেই ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গত শুক্রবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, ইসলামী ব্যাংকে সরকার অবৈধ হস্তক্ষেপ করছে না এবং ব্যাংকটির কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো অনিয়মতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ করেনি।

গভর্নর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসলামি ব্যাংকে ৫ সদস্যের একটি বোর্ড ছিল। ওই বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংক কারও বদলি বা পদোন্নতির বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে ইসলামী ব্যাংকে সরকার অবৈধ হস্তক্ষেপ করছে। কিন্তু বাস্তবে এমন কিছু হয়নি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular