ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিঅবশেষে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করলো

অবশেষে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করলো

নিউজ ডেস্ক : পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ চার মাস আটকে থাকা বিএসসি’র মালিকানাধীন জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা অবশেষে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোররাত ৩টার দিকে জরুরি নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেয়ে জাহাজটি সফলভাবে প্রণালী পার হয়। বর্তমানে এটি জ্বালানি সেবনের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিএসসি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর এখন জাহাজটি পরবর্তী গন্তব্যে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক-ক্রু সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।

বিএসসি জানায়, জাহাজটি ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে প্রবেশ করে প্রথমে কাতারের মাসাইদ বন্দরে ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল বোঝাই করে যায়। ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর থেকে পণ্য খালাসের পর পরের দিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর ইরান-পূর্ব সংঘাত শুরু হয়। তখনই ইরানি কর্তৃপক্ষ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

সংঘাতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ১১ মার্চ পণ্য খালাসের পর জাহাজটিকে কুয়েতে পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করে বিএসসি। বরং এটি সৌদি আরবের রাস আল খায়েতে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে প্রস্থান করে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জাহাজটি রাস আল খায়েতে আটকা পড়ে যায়।

মার্চ শেষে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ৮ এপ্রিল জাহাজটি কেপটাউনের পথে রাস আল খায়েত ছাড়লেও ১০ এপ্রিল আবার হরমুজ পারাপার করতে গিয়ে ইরানি কোস্টগার্ড বাধা দেয়। পরিস্থিতি অনুকূলে না হওয়ায় জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার জলসীমায় আশ্রয় নেয়। অবশেষে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে রাতেই জাহাজটি হরমুজ প্রণালী পার হতে সক্ষম হয়।

বিএসসি’র তথ্য মতে, ২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮,৮৯৪ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বাল্ক ক্যারিয়ারে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক কাজ করে। তারা সবাই নিরাপদে আছেন। বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘নাবিকদের সাহসিকতা এবং সুনিপুণ নৌ-কৌশলের কারণে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে জাহাজটি সাফল্যের সঙ্গে চলতে পেরেছে’।

মালেক আরও বলেন, দীর্ঘ প্রতিক্ষার মধ্যে নাবিকরা অসীম ধৈর্য দেখিয়েছে যা বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত। বিপদকালে বিএসসি নাবিকদের জন্য খাবার, পানি, জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছিল। এছাড়াও প্রতিদিনের খাবার ভাতা, ঈদ-উৎসবে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ‘ওয়ার ওয়েজ’সহ অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক নৌপরিবহণ খাতে সাফল্য হিসেবে স্বীকৃত হচ্ছে।-

বিএসসি জানিয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে, যা বাংলাদেশের নৌখাতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পারস্য উপসাগরের এই উত্তেজনাপূর্ণ যাত্রা বিশ্ব মেরিটাইম খাতে বাংলাদেশের মর্যাদা ও সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular