ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকবিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ও প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের জোগান উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার ইতিবাচক আশাবাদে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের পতন অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক বাজারমূল্য কমে গিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের স্তরে নেমে এসেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম ১ ডলার ৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭২ ডলার ৬৮ সেন্টে নেমে এসেছে।

একই সঙ্গে আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের মূল্য ৭৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে গিয়ে ৬৯ ডলার ৫৮ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি বাজারের এই দুটি প্রধান চুক্তিই গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তাদের সর্বনিম্ন দামের স্তরে পৌঁছাল।

বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন যে আগস্ট মেয়াদের ব্রেন্ট ক্রুড বর্তমানে সেপ্টেম্বর মেয়াদের চেয়েও কম দামে বিক্রি হচ্ছে, যা মূলত বিশ্ববাজারে স্বল্পমেয়াদি জ্বালানির পর্যাপ্ত জোগানের কথাই স্পষ্ট ইঙ্গিত করে।

আইজি সংস্থার প্রখ্যাত বাজার বিশ্লেষক টনি সিকামোর এই আকস্মিক মূল্যপতন সম্পর্কে এক বিশেষ নোটে জানিয়েছেন যে মাত্র দুই সপ্তাহ আগের পূর্বাভাসের চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ব্যারেলগুলো বিশ্ববাজারে ফিরে আসছে।

তেলের এই অভাবনীয় আগমন ও জোগানের দ্রুত গতি বাজারের অনেক বড় বড় ব্যবসায়ীকে বেশ চমকে দিয়েছে। এর আগে গত বুধবারও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৩ ডলারেরও বেশি কমেছিল এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও প্রায় ৩ ডলারের মতো হ্রাস পেয়েছিল।

জ্বালানি বাজারের এই স্থিতিশীলতার বিষয়ে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিশ্চিত করেছেন যে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে বর্তমানে তেলবাহী জাহাজের যাতায়াত বা তেলের প্রবাহ প্রায় যুদ্ধপূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

তিনি জানান যে বিগত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে অন্তত ২ কোটি ব্যারেল তেল সফলভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বেরিয়ে গেছে। তবে যুদ্ধকালীন সময়ে সমুদ্রের ওই জলপথে পুঁতে রাখা মাইনগুলো পুরোপুরি অপসারণ বা ডিমাইনিং করার প্রয়োজনীয়তা থাকায় পুরো নৌপথটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরাপদ করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ায় ইরানও এখন বিশ্ববাজারে তাদের তেলের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে প্রস্তুত হচ্ছে। এই দুটি বড় ঘটনার যৌথ প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের ফিজিক্যাল কার্গোর দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তির ফলেই মূলত হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় এই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল করা সম্ভব হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular