আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি ও বলকান অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়ছে। চরম গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে এবং স্বাস্থ্য খাতেও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাপ।
ইতোমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অতিরিক্ত তাপজনিত কারণে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রবীণ, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফ্রান্সের কিছু এলাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা হয়েছে এবং অনেক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে।
তাপপ্রবাহের প্রভাবে ইতালির ২২টি শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি ও অন্যান্য দেশে শত শত স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বা ক্লাসের সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিভিন্ন সরকারি সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে। বলকান অঞ্চলে একাধিক দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। সংস্থাটির মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে এমন তাপপ্রবাহ আরও ঘনঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, উত্তর আফ্রিকা থেকে উষ্ণ বায়ু প্রবাহ এবং শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় বা ‘হিট ডোম’-এর প্রভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তেরেসা রিবেরা চলমান তাপপ্রবাহকে জলবায়ু সংকটের একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ এবং জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচি জোরদার না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, জুনের শেষ ভাগ পেরিয়ে জুলাইয়ের শুরুতেও ইউরোপের কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে দাবানল, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আরও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রবীণ ও শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।




