ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশ৪৮ ঘণ্টায় চিতলমারীতে পানিতে ঝরল দুই শিশুর প্রাণ

৪৮ ঘণ্টায় চিতলমারীতে পানিতে ঝরল দুই শিশুর প্রাণ

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে বাগেরহাটের চিতলমারীতে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিশু। এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বাড়ির পেছনের ডোবায় পড়ে, আরেকজনের প্রাণ গেছে চলন্ত ভ্যান উল্টে খালে ডুবে। দুটি হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে গ্রামীণ জনপদে শিশুদের নিরাপত্তা ও জলাশয়কেন্দ্রিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।

সর্বশেষ শনিবার (৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চরচিংগুড়ি এলাকায় পানিতে ডুবে মারা যায় দুই বছর বয়সী রাইসা মনি। সে চরচিংগুড়ি গ্রামের প্রবাসী আমানোত মোল্লার মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ১০টার দিকে খেলতে খেলতে সবার অগোচরে বাড়ির পেছনের ডোবার কাছে চলে যায় রাইসা। কিছুক্ষণ পর তাকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ডোবার পানিতে তাকে ভাসতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মহিউদ্দিন আল-মামুন শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগের দিন শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার পরানপুর-চিংগুড়ি সীমান্তে খোকন ফকিরের বাড়ির সামনে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় সাত বছর বয়সী মো. আল-আমিন শরিফ। সে কুনিয়া গ্রামের মিজান শরিফের ছেলে।

নিহত শিশুর চাচা নাদিম শরিফ জানান, সকালে বাবা-মায়ের সঙ্গে পরানপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল আল-আমিন। অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে যাত্রীবাহী ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালে উল্টে পড়ে। দুর্ঘটনার পর সবাই উঠে এলেও আল-আমিন পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আলিফ শাহরিয়ার মৃত ঘোষণা করেন।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুর রহমান জানান, ভ্যান দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরপর দুই শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চিতলমারীজুড়ে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে দুই বাড়ির আঙিনা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রামীণ এলাকায় বাড়ির পাশের অরক্ষিত ডোবা, খাল ও জলাশয় এবং যাত্রীবাহী ভ্যানসহ ছোট যানবাহনের নিরাপত্তাহীন চলাচল শিশুদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা শিশুদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান, জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

 
 
 
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular