ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখেলারেফারি নিয়োগে ফিফার নিয়ম কী, আর্জেন্টিনা–মিসর বিতর্কে সত্যটা কোথায়

রেফারি নিয়োগে ফিফার নিয়ম কী, আর্জেন্টিনা–মিসর বিতর্কে সত্যটা কোথায়

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের মাঠে খেলাধুলার লড়াইয়ের পাশাপাশি রেফারিং বিতর্কও এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের কয়েকটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হওয়া সমালোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়েছে—কেউ বলছে ফিফা বিশেষ রাজনৈতিক সমীকরণ মেনে রেফারি ঠিক করছে, আবার কেউ বলছে আর্জেন্টিনা বা ইংল্যান্ডকে ঘিরে আলাদা কোনো কৌশলগত নিয়ম চালু হয়েছে। কিন্তু যাচাই করা সূত্রে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে ফিফা কোনো “বিশেষ রাজনৈতিক রেফারি নিয়ম” চালু করেছে।

ফিফার যা নিশ্চিতভাবে জানা যায়, তা হলো টুর্নামেন্টের আগে ম্যাচ অফিসিয়ালদের একটি নির্ধারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফা ৫২ জন রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি এবং ৩০ জন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নির্বাচন করে। পরে এই তালিকা থেকেই ম্যাচভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।

এই প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা, অভিজ্ঞতা, ফিটনেস, পারফরম্যান্স এবং টুর্নামেন্টের চাহিদা—এসবই মূল বিবেচ্য বিষয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেফারিদের এমনভাবে বাছাই করা হয়, যাতে তারা উচ্চচাপের ম্যাচ সামলাতে পারেন এবং শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মানসম্পন্ন সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম হন। ইউরোপীয় ফুটবলে যেমন রেফারি কমিটি পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়, বিশ্বকাপেও ফিফা তার আন্তর্জাতিক তালিকা থেকে যোগ্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়।

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের পর বিতর্ক আরও তীব্র হয় মূলত একটি ভিএআর সিদ্ধান্তকে ঘিরে। মিসরের অভিযোগ, তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রেফারিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা অভিযোগগুলো সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন এবং কর্মকর্তাদের স্বাধীনতা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিরোধিতা করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলিনা বলেছেন, ম্যাচ কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবেই দায়িত্ব পালন করেন এবং ভিত্তিহীন পক্ষপাতের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

এ কারণেই “ফিফা আর্জেন্টিনা বা ইংল্যান্ডকে ঘিরে বিশেষ নিয়ম চালু করেছে” — এমন দাবি এখনো যাচাইকৃত নয়। যা সত্য, তা হলো আর্জেন্টিনার কিছু রেফারি ও সহকারী রেফারি ২০২৬ বিশ্বকাপের তালিকায় আছেন, আর টুর্নামেন্টে তাদের কাজের সুযোগও তৈরি হয়েছে। তবে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে ফকল্যান্ড যুদ্ধের ইতিহাস বা অন্য কোনো ভূরাজনৈতিক বিরোধের কারণে বিশ্বকাপের রেফারি নিয়োগে আলাদা, আনুষ্ঠানিক কড়াকড়ি নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে।

আলোচনার আরেকটি বড় দিক হলো প্রযুক্তির ভূমিকা। চলতি বিশ্বকাপে ভিএআরকে কেন্দ্র করে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, প্রযুক্তি ম্যাচের ভুল কমানোর বদলে এখন অনেক সময় বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে—কখনো অফসাইডের সূক্ষ্ম সেন্সর, কখনো ভিএআর রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবু ফিফার অবস্থান হলো, প্রযুক্তি রেফারির সিদ্ধান্তকে সহায়তা করে, কিন্তু পক্ষপাতের প্রমাণ নয়।-

সারকথা, বিশ্বকাপের রেফারি “রাজনৈতিক সমীকরণে” নয়, বরং আগে থেকে নির্বাচিত আন্তর্জাতিক তালিকা, পারফরম্যান্স এবং ম্যাচের প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পান। আর্জেন্টিনা–মিসর বিতর্ক এবং পরবর্তী সামাজিক প্রতিক্রিয়া এই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে—রেফারিং নিয়ে জনমনে আস্থার প্রশ্ন যত বাড়ছে, ফিফার জন্য স্বচ্ছতা তত বেশি জরুরি হয়ে উঠছে। কিন্তু যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, আর্জেন্টিনা ম্যাচে রেফারি নিয়ে ফিফার কোনো নতুন গোপন কৌশলগত নিয়মের প্রমাণ এখনো মেলেনি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular