ঢাকা  মঙ্গলবার, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধহাসপাতাল থেকে শিশু অপহরণ, ১৫ ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার

হাসপাতাল থেকে শিশু অপহরণ, ১৫ ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ১৫ মাস বয়সী এক শিশুকে কৌশলে অপহরণের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শিশুটির মায়ের বান্ধবী পরিচয় দিয়ে পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার পর সুযোগ বুঝে তাকে নিয়ে পালিয়ে যান এক নারী। তবে পুলিশের দ্রুত অভিযানে প্রায় ১৩ থেকে ১৫ ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে চমেক হাসপাতালের পঞ্চম তলায় তিন দিন বয়সী এক নবজাতক চিকিৎসাধীন ছিল। ওই নবজাতকের ১৫ মাস বয়সী বড় বোন নাজেহাদকে নিয়ে সেখানে বসেছিলেন তার নানি। এ সময় নাছিমা বেগম (২৫) নামের এক নারী নিজেকে শিশুটির মায়ের পরিচিত বা বান্ধবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বৃদ্ধার সঙ্গে আলাপ জমান এবং ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জন করেন।

একপর্যায়ে শিশুটি কান্না শুরু করলে নাছিমা বেগম তাকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে নিচে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চান। সরল বিশ্বাসে নানি শিশুটিকে তার সঙ্গে যেতে দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই নারী ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন এবং পরে হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি ও সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি জানান।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শনিবার সকালে নগরের চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকা থেকে অপহৃত শিশু নাজেহাদকে উদ্ধার করা হয়।

অভিযানকালে শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে রাখার অভিযোগে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাছিমা বেগম (২৫) এবং তার স্বামী, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন (৩০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশেক জানান, অপহরণের খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। শিশুটিকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অপহরণের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অনেকেই হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও নবজাতক ওয়ার্ডে অপরিচিত ব্যক্তিদের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তারা।-

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে অপহরণের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ঘটনার নেপথ্যের সব তথ্য প্রকাশ করা হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular