ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়‘সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে সরকার’

‘সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে সরকার’

নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

শনিবার (১১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

মাহদী আমিন জানান, টানা ভারী বর্ষণের ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। এসব এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার, আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা এবং ত্রাণ বিতরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি রোববার দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের কথাও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র বলেন, সরকারের নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠপর্যায়ে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

ত্রাণ সহায়তার বিষয়ে মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ২ কোটি টাকার বেশি অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে চাল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় পানিবাহিত রোগ ও সাপের দংশনের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, ভ্যাকসিন এবং মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া পানি নেমে গেলে দ্রুত রাস্তা, সেতু ও রেলপথ মেরামতের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি, গবাদিপশু খামারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য কার্যকর ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি দ্রুত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু এবং এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা তিনটি ধাপে কাজ করছি—উদ্ধার (Rescue), ত্রাণ (Relief) এবং পুনর্বাসন (Rehabilitation)। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”-

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ, দ্রুত ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular