মো: তৌফিকুল হক : নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি একনলা বন্দুক, ৯টি কার্তুজ, ১০৬টি ককটেল, দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আটটার দিকে উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের সদাগরকান্দি গ্রামের লক্ষ্মীঘাটসংলগ্ন এলাকায় মেঘনা নদীতে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদাগরকান্দি গ্রামের মনির হোসেন (৩৫), আলকাছ (৬০) ও সাইমন ইসলাম (১৪)। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রেস নোটে বলা হয়, সদাগরকান্দি গ্রামে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফরিদ গ্রুপ ও মোমন চেয়ারম্যান গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযানটি চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লক্ষ্মীঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে কয়েকজন অস্ত্রধারী অবস্থান করছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। পরে সেখানে যৌথ বাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক, লাল রঙের ৯ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ, একটি হলুদ রঙের হেলমেট, চারটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, দুটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন, একটি স্টিলের চাপাতি, দেশীয় তৈরি আটটি বল্লম, ১৪টি লাল বালতিতে রাখা ১০৬টি ককটেল, একটি বালতি পাথর ও একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান ও রায়পুরা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুর নেতৃত্ব দেন। জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালিদ হোসেন শিশিরের উপস্থিতিতে নরসিংদী জেলা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও র্যাব-১১ নরসিংদীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।
পরে রায়পুরা থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক অভিযানের বিষয়ে বক্তব্য দেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযানের পর সদাগরকান্দি ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।




