সৈয়দ নুরুল্লাহেল সাদেক, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার জোরখালী ইউনিয়নের কাইজার চরে নির্মাণাধীন ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সংশোধনের ফলে প্রকল্পটির জন্য অতিরিক্ত ১০১ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে। (BSS)
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় একনেক সভায় প্রকল্পটির সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। (BSS)
২০২১ সালে অনুমোদন, এখন দ্বিতীয় সংশোধন
মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি নতুন কোনো প্রকল্প নয়। ২০২১ সালে প্রকল্পটির মূল অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল)। প্রকল্পের জন্য কাইজার চরে জমি উন্নয়ন, পুনর্বাসন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোসহ বিভিন্ন কাজ নেওয়া হয়েছে। (ADP Plan Comm)
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে প্রকল্পটির নাম ‘Construction of 100 MW Solar Power Plant at Madarganj in Jamalpur District’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। (Bangladesh Public Procurement Authority)
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভারতের
প্রকল্পটির সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ভারতের Amara Raja Infra Private Limited (ARIPL)-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ভারতের Premier Solar Powertech-ও যৌথভাবে কাজ করছে। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ১০০ মেগাওয়াট (এসি) সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তির মূল্য ১৩ কোটি ডলার নয়, ১৩০ মিলিয়ন ডলার বা ১৩ কোটি ডলার। (Amara Raja)
প্রকল্পটির জন্য ভারতের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নের কথাও সরকারি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। প্রকল্পটি প্রায় ৩২৬ একর জমিতে বাস্তবায়নের কথা। (Amara Raja)
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব
একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশলে সৌরবিদ্যুৎকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। (BSS)
মাদারগঞ্জের এই প্রকল্প চালু হলে জাতীয় গ্রিডে আরও ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর চাপ কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকল্পটি দ্রুত শেষ হলে মাদারগঞ্জসহ জামালপুরের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি প্রকল্প এলাকায় কর্মসংস্থান ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগও বাড়বে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।




