নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের’ লক্ষ্য ছিল চূড়ান্ত বিপ্লব, তবে সেই লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ‘কবিতা বাংলাদেশ’-এর সহসভাপতি কবি হাসান আলীম। তিনি বলেন, অসম্পূর্ণ বিপ্লবকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিতে লেখক, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণকে জাগ্রত রাখতে তাঁদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁর সম্মেলনকক্ষে ‘৩৬ জুলাই সাহিত্যকর্ম বিশেষ সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমি (বিসিএ) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
হাসান আলীম বলেন, ‘৩৬ জুলাই সাহিত্যকর্ম বিশেষ সম্মাননা’ একটি শুভ সূচনা। ভবিষ্যতে এ আয়োজনের পরিসর আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির সেক্রেটারি গল্পকার ও কবি ইবরাহীম বাহারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি ও দৈনিক নয়া দিগন্তের সাহিত্য সম্পাদক জাকির আবু জাফর এবং বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির সভাপতি আবেদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিসিএর প্রকাশনা ‘সৃজনধারা’ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক কবি শহীদ সিরাজী।
অনুষ্ঠানে ‘৩৬ জুলাই বিপ্লব’ বিষয়ক সাহিত্যকর্ম মূল্যায়ন করে ছয়জন লেখককে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন কবি আমিনুল ইসলাম, কবি ও চারুশিল্পী ইব্রাহীম মন্ডল, কবি নাঈম আল ইসলাম মাহিন, কথাসাহিত্যিক নাসীমুল বারী, কবি শহীদ সিরাজী এবং কথাসাহিত্যিক হারুন ইবনে শাহাদাত। তাঁদের ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কবি জাকির আবু জাফর বলেন, কবি-সাহিত্যিকদের নিয়ে অনেক অপতথ্য ও ইতিহাস বিকৃতি রয়েছে। বিভিন্ন আন্দোলন ও বিপ্লবের নেপথ্যে কবি-সাহিত্যিকদের ভূমিকা রয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে। ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তাঁর সাহিত্যকর্ম প্রেরণা জুগিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির সভাপতি আবেদুর রহমান বলেন, সংগঠনের এ আয়োজনের সমালোচনা না করে উৎসাহিত করা উচিত। পাশাপাশি পরামর্শের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে কবি ইবরাহীম বাহারী বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমি ও এর সাহিত্যবিষয়ক প্রকাশনা ‘সৃজনধারা’র বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে কবি নাঈম আল ইসলাম মাহিন ও ড. মানসুর ফিরোজী উপস্থাপনা করেন। ক্বারী আব্দুল কাইয়ুমের কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে বিভিন্ন বয়সের কবি ও লেখকেরা তাঁদের লেখা পাঠ করেন। পঠিত লেখা পর্যালোচনা করেন কবি ও গবেষক ড. ইয়াহ্ইয়া মান্নান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শিল্পী মিরাজুল মুনিম, শোয়াইব হোসেন ও মিনহাজুর রহমান সংগীত পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে কবি শহীদ সিরাজীর ‘৩৬ জুলাই বিপ্লব’কে নিবেদিত ‘হৃদয়ে লাল জুলাই’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।




