প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ফরাজী
একজন মা যখন সন্তানের জন্ম দেন, তখন সেই মুহূর্তটি হওয়া উচিত জীবনের সবচেয়ে আনন্দের। কিন্তু বাস্তবে, অনেক সময় দেখা যায়, সেই আনন্দের মুহূর্তে মায়ের চোখে পানি, কণ্ঠে অসহায়ত্ব এবং মুখে আতঙ্ক। সম্প্রতি, একটি প্রসূতি মায়ের কান্নার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি হাসপাতালের বিল পরিশোধ নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন।

একজন প্রসূতি মায়ের কান্না, হাসপাতালের বিলিং ব্যবস্থা, রোগীকে চিকিৎসার সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে পূর্বে না জানানো, এবং জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি টাকা আদায়। আজকাল এগুলো গোপন কিছু নয়। ।
এদিকে, জামালপুরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পরিদর্শনকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাসপাতালের অবস্থা এবং রোগীর সংখ্যা দেখে তিনি বলেছেন, এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে খারাপ হাসপাতাল-অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। শিশু ওয়ার্ডের ভয়াবহ চিত্র এবং পরিত্যক্ত ভবনে চিকিৎসাসেবা চলার বিষয়টি আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে।
সরকারি হাসপাতালে জায়গার সংকট এবং বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়ের চাপ—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে একজন রোগী ও তাঁর পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে।
এখন আবেগের পরিবর্তে প্রয়োজন জবাবদিহি। প্রসূতির কান্না এবং মন্ত্রীর হতাশা—দুটিই একই স্বাস্থ্যব্যবস্থার দর্পণ। রোগী কোনো পণ্য নয়, চিকিৎসা কোনো বিলাসিতা নয়। স্বাস্থ্যসেবা হতে হবে নিরাপদ, সাশ্রয়ী, স্বচ্ছ ও মানবিক।
লেখক- RN, NLPN, PhD (Clinical Nursing)




