ঢাকা  শনিবার, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশসিলেটশাহজালাল (র.) মাজারের দানবাক্সে মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

শাহজালাল (র.) মাজারের দানবাক্সে মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

সিলেট প্রতিবেদক: চতুর্থবারের মতো হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা সম্পন্ন হয়েছে। চতুর্থ দফার গত ৩৪ দিনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগগুলোতে মোট নগদ ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ পাওয়া গেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ) দিনভর গণনা শেষে সন্ধ্যায় সার্বিক তথ্য উপস্থাপন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান ও মাজার সংশ্লিষ্টরা।

সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, গত ৩৪ দিনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগগুলোতে মোট নগদ ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে ছিল ব্রিটিশ ৫ পাউন্ড, ভারতীয় রূপি ৩ হাজার ৯৫৪, থাইল্যান্ডের ৫ বাথ, সৌদি আরবের ৯৯.২৫ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, ৮ মার্কিন ডলার, ওমানের ৯০৩ রিয়াল, আরব আমিরাতের ৫৭.২৫ দেহরাম, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১.৫০ রিয়াল, ৩০.১০ ইউরো, বাহরাইনের দশমিক ২৫ দিনার, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ টিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান ও ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রূপিয়াহ।

এছাড়া দান হিসেবে ৬টি গরু ও ১১টি ছাগল পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে লঙ্গরখানায় খাবারের জন্য জবেহ করা হয়েছে ৫টি গরু ও ৭০টি ছাগল। ৪০টি ছাগল বিক্রি করে লঙ্গরখানার স্টাফদের মজুরি এবং একটি করে গরু ও ছাগল গরীব দুই মেয়ের বিয়েতে দান করা হয়েছে।

মাজারে ডেগে প্রতিবারই পাওয়া যায় বেশ কিছু চিঠি। এবার বিভিন্ন মানুষ তাদের সমস্যা নিয়ে কিছু চিঠি লিখেছেন। এরমধ্যে একটি চিঠি ছিল ভালোবাসার মানুষকে না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে। শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে মাজারের টাকা গণনার সময় এই চিঠি পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১২ জুন প্রথমবারের মতো উদ্যোগ নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ এবং দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয়।

এ উদ্যোগকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই গত ২১ জুন সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন ২২ জুন তিনি মাজারের সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার ব্যবস্থা করেন। ওইদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে অর্থগুলো সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।

পরবর্তীতে মাজারের আর্থিক কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে গত ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এরপর সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে দানবাক্সের টাকা দ্বিতীয় দফায় গণনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। গত ১১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় দফার ১৯ দিনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগগুলোতে মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা জমা হয়।

দুইবার গণনার সময় একাধিক দেশের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রীও পাওয়া যায়। এরপর গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফার গত ৩৪ দিনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগগুলোতে মোট নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা, স্বর্ণ, রুপা ও একাধিক দেশের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রীও পাওয়া যায়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular