ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকডিপকে জানান: আমরা গিয়ানেশকুমারকে পদত্যাগ করাবো, জেলেও যাব

ডিপকে জানান: আমরা গিয়ানেশকুমারকে পদত্যাগ করাবো, জেলেও যাব

নিউজ ডেস্ক: শনিবার (১০ অক্টোবর) ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার গিয়নেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে ‘জন্তর মান্তার ২.০’ প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে  দিল্লি যাচ্ছিলেন Cockroach Janta Party (CJP)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত ডিপকে। মুম্বাই ছেড়ে দিল্লির বিমানবন্দরে অবতরণ করে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ভয় দেখিয়ে বা কারার হুমকি দিয়ে তাঁদের আন্দোলন থামানো যাবে না এবং তিনি দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবেন।

ডিপকে বলেন, “আপনারা যদি মনে করেন জেলের ভয়ে আমাদের বাধা দিতে পারবেন, তাহলে ভুল করছেন। আমরা জেলেও যেতে প্রস্তুত। … দেশের গণতন্ত্র বাঁচাতে আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো”। তিনি আরও বলেন, “১৩ কোটি ভোটের তালিকা মুছে ফেলেছে; মানুষকে তাদের ভোটাধিকারের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে; আমরা গিয়নেশ কুমারকে পদত্যাগ করাবো এবং এই লড়াই চালিয়ে যাব”।

এই দাবির পটভূমিতে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে যে শনিবারের বিক্ষোভ ঠেকাতে সারা শহরে ৩৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। দিল্লির পুলিশ জানায়, শতাধিক প্রতিবাদকারী ও তাদের নেতৃবৃন্দকে আটক করা হয়েছে। CJP-এর পক্ষ থেকে করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে অবতরণের পরই ডিপকে ও তাঁর সফরসঙ্গী দুই নেতাকে – সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে – গ্রেপ্তার করে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ হেফাজতে নেয়া সত্ত্বেও ডিপকে আন্তরিক অবস্থান বজায় রেখেছেন। টেলিভিশন চিত্রে দেখা গেছে, বিমানে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে করুন, আমি গ্রেপ্তারের জন্য এসেছি… আপনাদের সামনে আমি ভীত নই”। ওই সময়ের ছবি ও বিবৃতিতে পুলিশ একবার বলেন, “এটি গ্রেপ্তার নয়, অনুগ্রহ করে সহযোগিতা করুন।” CJP এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এটিকে “স্বৈরশাসনের হস্তক্ষেপ” বলে অভিহিত করে নেতাদের দ্রুত মুক্তির দাবি করেছে।

পুলিশের সতর্কতামূলক পদক্ষেপে দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন এবং অনেক মার্কেট বন্ধ রাখা হয়েছে, শহরের কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোতে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করা হয়েছে। বিক্ষোভের কথা শুনে বিভিন্ন প্রবেশপথে পুলিশ গাড়ি আটকাচ্ছে এবং যাত্রীসহ বাস পরীক্ষা করছে। প্রতিবাদকারীদের অভিবাদন হিসেবে “বিপ্লব জয় হোক” স্লোগান দেন কিছু তরুণ; তবে পুলিশ তাদের বাধিয়ে দেয় ও অনেককে বাসে তোলা হয়।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গত কয়েকদিন ধরে কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই সপ্তাহে তাঁকে অন্তত চারবার সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটক করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত।

এই বিক্ষোভ ব্যর্থ করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দিল্লি পুলিশ পূর্বে জানিয়েছিল যে কোনো অনুমতি না থাকায় বিক্ষোভ হবে না, উভয় রাজনৈতিক দল নির্দেশ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বিরুদ্ধ কোনো কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবে না। তবে CJP নেতারা বলেন, এই আন্দোলন গণতন্ত্র রক্ষার প্রয়াস, আর সরকারের পদক্ষেপকে বিচারহীন বিভ্রান্তি বলে অভিহিত করেছেন। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ভোটার তালিকার প্রাথমিক সংশোধনে প্রায় ১৩ কোটি নাম বিদ্যমান ছিল, যা নিয়েও বিরোধীরা বিরোধিতা করছে।-

এই পরিস্থিতিতে Cockroach Janta Party’র তরুণ সমর্থকরা দাবি করছেন যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাতে’ তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। CJP শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, সংঘর্ষ হয়নি, তবে “দেশজুড়ে অন্তত ১০ হাজার” সমর্থককে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, সরকার ক্ষমতায় থাকার সুবিধার্থে ভোটার তালিকায় এই ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়েছে, যা দেশীয় নির্বাচনে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি উন্নয়নশীল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নাগরিক সমাজের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular