ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা মাদ্রাসা ছাত্রী: শিক্ষক ও দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা মাদ্রাসা ছাত্রী: শিক্ষক ও দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা

নিউজ ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার এক শিক্ষক ও দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নানি বাদী হয়ে সোমবার শ্যামনগর থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলাটি করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—মাদ্রাসার শিক্ষক নূর আলম সরদার (৩৬) এবং ওই একই প্রতিষ্ঠানের দশম ও অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্র।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে নানির বাড়িতে থেকে স্থানীয় ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে আসছে। তার বাবা যশোরের শার্শা উপজেলার বাসিন্দা এবং মা জীবিকার তাগিদে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে অবস্থান করছেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী শিশুটির গোসলের দৃশ্য গোপনে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে ভিডিওটি সে অষ্টম শ্রেণির অপর শিক্ষার্থীর কাছে দেয়। এরপর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দুই ছাত্র মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত নানির অনুপস্থিতির সুযোগে বিভিন্ন সময়ে তারা শিশুটিকে ধর্ষণ করে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে শিক্ষক নূর আলম সরদারের বিরুদ্ধে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিবেশী ও শিক্ষক হওয়ার সুবাদে তিনি নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি নানি বাড়িতে না থাকার সুযোগে নূর আলম সরদার শিশুটিকে জুস খেতে দেন। জুস খাওয়ার পর শিশুটি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে শিক্ষক তাকে ধর্ষণ করেন। বয়স কম হওয়ায় এবং সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে শিশুটি এত দিন ঘটনাটি পরিবারের কাউকে জানায়নি।

শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ৫ অক্টোবর সকালে নানি শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য যশোরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে ডাক্তারি পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান যে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে নানির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি পুরো নির্যাতনের ঘটনা খুলে বলে। এই খবর এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গা-ঢাকা দেন। তাদের মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ রয়েছে এবং শিক্ষকের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম জানান, শিশুটির নানির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকে আসামি করে থানায় নিয়মিত মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এবং গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

অসহায়ত্ব প্রকাশ করে ভুক্তভোগী শিশুটির নানি বলেন, ‘আমি অসহায় মানুষ। আল্লাহ আর থানা-পুলিশই এখন আমার ভরসা। মেয়েটার জীবন তো শেষ হয়ে গেল! এখন কী করব, কোথায় যাব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular