হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নে ‘ভাটরার জাউরা’ নামক একটি কিশোরগ্যাং গ্রুপের বর্বরোচিত হামলায় মো. সুকুর আলম (২৫) নামের এক রাজমিস্ত্রী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় সুকুর আলম ছাড়াও তারেক (২০) নামের আরও এক যুবক আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত সুকুর আলম ওই গ্রামের মজুমদার বাড়ির জামাল হোসেনের ছেলে। অপর আহত তারেকও একই বাড়ির বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ভাটরা মজুমদার বাড়িতে অনুষ্ঠিত একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে হঠাৎ করে এসে উপস্থিত হয় কিশোরগ্যাং ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে তারা নাচ-গান শুরু করে এবং একপর্যায়ে মুরুব্বী ও অতিথিদের সামনে অশালীন আচরণ করতে থাকে। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠরা সাউন্ডবক্সের বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন।
লাইন কেটে দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে কিশোরগ্যাংয়ের সদস্যরা। তারা ওই বাড়ির তারেককে পুনরায় সাউন্ডবক্সের সংযোগ দিতে বলে। তারেক এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে।
তারেকের ডাক-চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রাজমিস্ত্রী সুকুর আলম। এসময় সন্ত্রাসীরা সুকুর আলমের ওপর চড়াও হয় এবং পাশে থাকা একটি ভারী গাছের গুঁড়ি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং মাথায় গুরুতর জখম প্রাপ্ত হন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় সুকুর আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢামেক হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। অপর আহত তারেককে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভুঁইয়া বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক দ্রুত অত্যন্ত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “মাদক, ইভটিজিং এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে। অপরাধীদের ধরতে এবং সমাজ থেকে এই ব্যাধি দূর করতে তিনি সাধারণ মানুষকে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।”



