নিউজ ডেস্ক: হামাস হামলা, গাজা ও ইরানের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার মধ্য দিয়ে সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ইসরায়েলের নাগরিকরা। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রায় ৭৩ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন, যার মধ্যে ৩৩ লাখ নতুন ভোটার।
নির্বাচনী জরিপ অনুযায়ী, ১৯ বছর ধরে ইসরায়েলের ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ‘লিকুদ’ পার্টি এবং তার সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাডি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।নেতানিয়াহু তার যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিকে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রধান হাতিয়ার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ট্রাম্পের সহায়তায় ইরান হুমকি চিরতরে দূর করতে তিনি প্রস্তুত, তবে তার জন্য তাকেই ক্ষমতায় থাকতে হবে।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে বিরোধী নেতা আইজেনকোট বলেন, ইসরায়েলের জনগণ যে নেতাকেই নির্বাচিত করুক না কেন, মার্কিন প্রশাসন তার সঙ্গেই পূর্ণ সহযোগিতা বজায় রাখবে।
১২০ আসনের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহু বা আইজেনকোট-কারো জন্যই এককভাবে সরকার গঠন করার মতো স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সহজ হবে না। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুকে আবারো উগ্র-ডানপন্থী নেতা এতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।
যদি কোনো পক্ষই শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়, তবে আগামী বছর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
সূত্র: রয়টার্স



