নিউজ ডেস্ক: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনক-এর বিরুদ্ধে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারণায় লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার শিবির অভিযোগ করেছে যে, মেটা তাদের কনটেন্ট সঠিকভাবে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টরাল কোর্ট মেটাকে রাজনৈতিক কনটেন্ট ছড়ানোর ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছে। জাতিসংঘ এবং মার্কিন আইনপ্রণেতারাও মেটার ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।
মেটার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ব্রাজিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ক্ষমতা ও প্রভাব নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবারও উসকে দিয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে তথ্যভিত্তিক অপপ্রচার ছড়ানোর অভিযোগে একাধিক অ্যাকাউন্ট ও কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বিচার বিভাগের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে।
বর্তমানে লুলা ও ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছেন। লুলা তার প্রচারণায় ১ কোটিরও বেশি সমর্থক যুক্ত করেছেন, তবে মেটার পক্ষ থেকে তার অ্যাকাউন্টে সমস্যা তৈরি এবং কনটেন্টের বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে।
মেটার মুখপাত্ররা পক্ষপাতিত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সমস্যাগুলোকে কারিগরি ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে, লুলার সমর্থকরা মেটার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন।
মার্কিন আইনপ্রণেতারা মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে একটি চিঠিতে লিখেছেন যে, কনটেন্ট সীমিত করার বিষয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
লুলা বলেছেন, ‘আমরা অবশ্যই এর বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমরা প্রমাণ করব যে আমরা এই ডিজিটাল সাম্রাজ্যকে পরাজিত করতে পারি।’
ডিজিটাল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের রবার্তা ব্রাগা বলেছেন, মেটার কর্মকাণ্ডের প্রভাব নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
ব্রাজিলের ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন, ফলে নির্বাচনে মেটার ভূমিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল। তবে, শেষ মুহূর্তের বিতর্ক নির্বাচনের ফলাফলে বড় পরিবর্তন আনবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ব্রাগা।
সূত্র: NDTV



